ভোটের লড়াইয়ের আগেই আনারস, চশমা, টেবিল ফ্যান, টেলিফোন, সূর্যমুখী ফুল, মাইক, ক্যামেরা, বই, ঘুরি, ফুটবল তালা, মোরগ প্রতীক নিয়ে হয়ে গেল আরেক লড়াই। প্রতীক বরাদ্দের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে ঘুরেফিরেই শোনা যাচ্ছিল প্রার্থী সমর্থকদের ওইসব প্রতীকের শব্দগুলো। প্রার্থীদের মধ্যে কেউ পাচ্ছেন তাদের কাঙ্খিত প্রতীক আবার, কেউ পাচ্ছেন না। অনেকে আবার বসে সমঝোতা করেছেন। তাছাড়া একই প্রতীক একাধিক প্রার্থী দাবি করায় লটারির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হয়। ব্রাহ্মবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার চতুর্থ ধাপে ইউপি নির্বাচনে মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থীরা তাদের কর্মী সমর্থন নিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অফিস কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে তারা হাজির হন। প্রার্থীরা তাদের পছন্দের প্রতীক লটারি ও সমঝোতার মাধ্যমে বেছে নেন। তবে অনেক প্রার্থীর কোন প্রতীক প্রতিযোগিতা না থাকায় তারা তাদের পছন্দের প্রতিক পেয়েছেন। বেশীভাগ ক্ষেত্রে লটারিতে প্রতীক নির্ধারণ করতে হয়েছে প্রাথীদের।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন আগামী ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়রম্যান পদে (স্বতন্ত্র) প্রতীক ৩০ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৪৮ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১৬৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন করতে গিয়ে প্রতিটি প্রার্থী তাদের পছন্দের প্রতীক চেয়েছেন। একই প্রতীকে একাধিক প্রার্থী হওয়ার কারণে লটারির মাধ্যমে এর সমাধান করতে হয়। এই সমাধানে বেশী ভাগ প্রার্থীই খুশি হয়েছেন।
এদিকে এই উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে নৌকা ধানের শীষসহ দলীয় কোন প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না । চেয়ারম্যান পদে অংশ গ্রহনকারীরা সবাই স্বতন্ত্র প্রতীকে তারা নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন।
তবে সারা দেশে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীক নিয়ে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করলেও এ উপজেলায় রয়েছে অনেকটাই ব্যতিক্রম। আসন্ন ৪র্থ দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ কোনো প্রার্থীকে দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল হান্নান ভূইয়া স্বপন, মো. আল-আমীন ভূইয়া ও মো. আনারস প্রতীক দাবি করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজেদের সমঝোতা করতে বললে কেউ কাউকে এ প্রতীকে ছাড় দিতে রাজী হয়নি। এক পর্যায়ে লটারির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। লটারিটে আব্দুল হান্নান ভূইয়া স্বপন আনারস প্রতীক পান। ওই প্রতীক পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন । পুনরায় বাকী দুজন প্রার্থীর মধ্যে আবার লটারি হয়। শাহজাহান টেলিফোন প্রতীক পান।
অপরদিকে আখাউড়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়নে মো. জালাল উদ্দিন ও মো. আজাদ ভূইয়া আনারস প্রতীক চেয়েছেন। দুজনের মধ্যে কোন সমঝোতা না হওয়ায় লটারিতে জালাল উদ্দিন আনারস প্রতীক পান। জালাল উদ্দিন বলেন, এই নির্বাচনে যেহেতু দলীয় কোন প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না। তাই আনারস প্রতীক আমার প্রথম থেকেই পছন্দের ছিল। আল্লাহ আমার মনের আশা পুরণ করেছে। তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন।
ধরখার ইউনিয়নের মো. গোলাম সামদানী ফেরদেীসসহ ৫ জন প্রার্থী আনারস প্রতীক চেয়ে ছিলেন। পরে ফেরদৌস আনারস প্রতীক পাওয়ায় একে এক অন্য প্রার্থী নিজেরা সমঝোতা করে প্রতীক বেছে নেন।
উত্তর ইউনয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মো: আবুল কাশেম, মো. রাসেল মিয়া, মো. বশির আহমেদ এই ৩জন প্রার্থী ফুটবল প্রতীক চান। শেষ পযর্ন্ত কোন সমঝোতা না হওয়ায় লটারিতে সমাধান হয়। লটারিতে আবুল কাশেম ফুটবল প্রতীক পান। এরপর বাকী দুইজন ও লটারীর মাধ্যমে সমঝোতায় যেতে হয়। পছন্দের প্রতীক পেয়ে দুজনই খুবই খুশি।
৭নং উত্তর ইউনিয়নের সাধারণ সদস্য প্রার্থী মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, ফুটবল প্রতীক ৫ জন প্রার্থী চেয়েছেন। সমঝোতা আসতে না পেরে লটরিতে সমাধান হয়। লটরিতে বিজয় হওয়ায় তিনি খূবই খুশি বলে জানায়।
মো. কামাল মিয়া বলেন লটারিতে হার জিতের কোন কিছু নেই। জনপ্রিয়তা হচ্ছে আসল কথা। দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মো. মনির হোসেন, আলাউদ্দিন বধু ও মো. রুকন উদ্দিন এই ৩ জন ফুটবল প্রতীক চেয়েছেন। শেষ পযর্ন্ত লটারিতে মনির হোসেনের ভাগ্যে ফুটবল জুটে। পরে তারা দুইজন পছন্দ করে প্রতীক বেছে নেন।
সূত্র জানায় চেয়ারম্যান (স্বতন্ত্র) প্রতীক হলো অটোরিক্সা,ঘোড়া, ঢোল,চশমা,মটর সাইকেল,রজনীগন্ধা,দুটি পাতা,টেলিফোন,টেবিল ফ্যান,আনারস।
সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে রয়েছে কলম, বক, ক্যামেরা, সাঁকো, তালগাছ, মাইক,হেলিকপ্টার, জিরাফ,বই, সূর্যমুখী ফুল। সাধারণ সদস্য পদে আপেল, টর্চ লাইট,ক্রিকেট ব্যাট, ভ্যান গাড়ি,ঘুড়ি, ফ্যান,টিউব ওয়েল,মোরগ,পানির পাম্প,লাটিম,ফুটবল ও তালা প্রতীক রয়েছে।
উত্তর ইউনিয়নের (১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড) সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য পদপ্রার্থী আনোয়ারা বেগম ও স্মৃতি দত্ত তারা দুজনই পছন্দের প্রতীক মাইক। দুজনের কেউ মাইক প্রতীক ছাড়তে রাজি না হওয়ায় অবশেষে লটারি করা হয়। লটারিতে পছন্দের প্রতীক পেয়ে উৎফুল্লে স্মৃতি দত্ত বলেন, নির্বাচনে শুরু থেকে মাইক প্রতীক আমার খুবই পছন্দের প্রতীক হিসাবে ছিল। এই প্রতীকের প্রতি ছোটবড় সবারই একটা টান আছে। আশা করি সাধারণ ভোটাররা এই প্রতীক দেখে আমাকে ভোট দিবে।
ধরখার এলাকার সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী সুরমা আক্তার, শাহিনুর বেগম ও আছিয়া আক্তার তারা ৩জনই মাইক প্রতীক চেয়েছেন। এক পর্যায়ে তারা সমঝোতায় চলে গিয়ে একজন মাইক, তালগাছ আর হেলিকপ্টার প্রতীক তারা নেন। সুমরা আকার বলেন, প্রতীক যত মানুষের কাছাকাছি হবে, ভোট চাইতে তত সুবিধা হবে বেশী। মূল লড়াই হবে ভোটারদের মন যোগানো। সম্পর্ক তৈরী করা। তার জের ধরেই ইনশাল্লাহ জিতবো। এদিকে প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই জমে উঠেছে প্রচার প্রচারণা।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ জাসিদুল ইসলাম বলেন , আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই প্রক্রিয়া শেষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ নির্বাচনে চেয়রম্যান পদে (স্বতন্ত্র) প্রতীক ৩০ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৪৮ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১৬৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতীক নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে বেশ লড়াই হয়েছে। প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে না পারায় বাধ্য হয়ে চেয়ারম্যান সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে লটারি করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে মোট ভোট সংখ্যা হচ্ছে ৮৪ হাজার৪শত ৩৮টি। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন উপহার দিতে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করা হচ্ছে। সুষ্ঠভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন।





