করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট মহানগর জেনারেল হাসপাতালকে আইসোলেশন কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৬ জন চিকিৎসক ও ৩০ জন নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত এই আইসোলেশন কেন্দ্রটি চালুর জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামসহ পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) চাওয়া হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো সাড়া নেই।
জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনালের ডা. মো. শরীফ আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চাহিদার ভিত্তিতে আমাদের মহানগর জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ইউনিট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ রোগের চিকিৎসার জন্য যেসব উপকরণ দরকার সেগুলো আমাদের নেই। এজন্য আমরা একটা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ডাক্তারদের জন্য জিনিসপত্র দরকার রয়েছে। তাদের প্রোটেকশন ইউনিফর্ম দরকার। সেখানে আইসিইউ নেই। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। মেডিসিন নেই। আমরা তাদের রিমাইন্ড দিয়েছি। ট্রেনিংয়ের বিষয়টিও বারবার বলেছি। কিন্তু তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাহলে কীভাবে করব? আমাদের তো নিজস্ব ডাক্তার নেই। এই রোগের চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আগ্রহে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন মহানগর জেনারেল হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বিশেষজ্ঞ দল হাসপাতালটি পরিদর্শনও করেছে। ১৬ জন চিকিৎসক ও ৩০ জন নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালটির ১০০ শয্যা করোনা ইউনিট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাসপাতালের রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় গত ১৬ মার্চ ডিএনসিসির পক্ষ থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পিপিই চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনবল, যন্ত্রপাতি, ওষুধপত্র, বিশেষায়িত গাউন, জুতা, মাস্ক ও বিশেষ ধরনের চশমাসহ পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই), চিকিৎসা টিমের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট, রোগীদের ব্যবহূত জিনিসপত্রের লন্ড্রি সার্ভিসসহ এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চাওয়া হয়েছে। তবে অধিদপ্তর থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মহানগর জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে একটি নোটিশও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, করোনা রোগী সন্দেহ হলে মহানগর জেনারেল হাসপাতাল বা ১৬২৬৩ নম্বরে যোগাযোগ করবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রকাশ চন্দ্র রায় বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালে ১৬ জন চিকিৎসক ও ৩০ জন নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার ৪ জন চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন। বাকিরা দু-একদিনের মধ্যে যোগ দেবেন। আর নার্সরা প্রশিক্ষণে আছেন।
তিনি আরো জানান, হাসপাতালটিকে আইসোলেশন কেন্দ্র করা হবে নাকি শুধু বহির্বিভাগ চিকিৎসা দেওয়া হবে, তা নিয়ে একটা অস্পষ্ট ছিল। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে এখানে দুটিই হবে। আইসোলেশন কেন্দ্রে রাখা কারো আইসিইউ দরকার হলে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।





