আব্দুস সালাম, দিনাজপুর, প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে অভিনব কৌশলে এক যুবককে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করে দেনমোহর দাবি করছেন এক নারী। ওই নারীর ফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে যুবকের পরিবার ঘুরছেন বিচারকদের দ্বারে দ্বারে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই নারী বিরল উপজেলার আশুলিয়া কাঞ্চন এলাকার মৃত মজিবর রহমানের মেয়ে সেলিনা আক্তার ।
চার বছর পূর্বে অভিনব কায়দায় প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে ১০ লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করে বিয়ে করেন দিনাজপুর হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী মোঃ লায়জার হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীকে। বিয়ের কিছুদিন পর লায়জার হোসেন জানতে পারে সেলিনা আক্তার কোন কুমারী মেয়ে নয়, ইতোপূর্বে তার আরো ৪ বার বিয়ে হয়েছে ।
ঘটনার সূত্রে জানা যায় সেলিনা আক্তারের ফুফাতো ভাই বেলালের সাথে ২০০২ সালে প্রথম বিয়ে হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার কারনে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ২০১০ সালে আবারো দ্বিতীয় বিয়ে করেন দিনাজপুর বিরল উপজেলার যুগিহারী খাড়িপাড়া গ্রামের মেহেরাব আলীর ছেলে এনামুল হকের সাথে। কিছু দিন পর তাদের পরিবারের দ্বন্দ সৃষ্টি হলে আবারও তৃতীয় বিয়ে করেন বিরলের কাজীপাড়া গ্রামের মৃত সহবুলের ছেলে শামিমকে এবং ২০২৩ সালে চতুর্থ বিয়ে করেন বিরল ফরক্কাবাদ এলাকার নাদিমের ছেলে রাজ্জাকুলের সাথে। এভাবে বিয়ে করে শুধু মোহরানা আদায় করাই সেলিনা আক্তারের পেশা বলে জানিয়েছেন ভুক্ত ভোগিরা।
পঞ্চম স্বামী লায়জার হোসেন জানান, দিনাজপুর হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা কালীন দিনাজপুর পৌর এলাকার রামনগর ইন্দিরার মোড় ম্যাচ/বাসা বাড়ীতে থাকা অবস্থায় সেলিনার সাথে তার পরিচয় পরে তার মোবাইল নম্বরে কয়েক দিন কথা বলার পর তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে আটক করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ১০ লাখ টাকা কাবিন করে বিয়ে দেন হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী লাইজারের সাথে। ভুক্তভোগী লায়জার হোসেন জানান ওই নারী তাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন, সেলিনা তার চক্রের মাধ্যমে কাবিনের টাকা দাবি করেন।
লায়জার হোসেনের পরিবার ১০ লাখ দেনমোহরের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেলিনা বাদী হয়ে নারী শিশু ও পারিবারিক আদালতে পৃথক দুটি মামলা করে। এ দিকে লায়জার হোসেন বাদী হয়ে প্রতারক সেলিনা আক্তারের বিরুদ্ধে দিনাজপুর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। মামলা ২৯৭/২১ তারিখ ২৪-০৮-২১ । অপরদিকে লায়জার হোসেন জানান দিনাজপুর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে তিনিও একটি মামলা দায়ের করেছেন মোছাঃ সেলিনা আক্তারের বিরুদ্ধে। যাহার মোকদ্দমা নং- ২৯৭/২১, তারিখ- ২৪/০৮/২০২১।
এসব বিষয়ে সেলিনা আক্তার জানান, তার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা আদালত দেখবে। তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। উভয় পক্ষের মামলা চলাকালীন সময় সেলিনা আক্তার বিভিন্ন রকম হুমকি ধামকি সহ নানা রকম ভয় ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নিকট সঠিক তদন্ত করে এর বিচারের দাবি জানিয়েছে লায়জার হোসেনের পরিবার ।





