সারা দেশ

ফকিরহাটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙ্গে পড়েছে

  • ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৬ নভেম্বর, ২০২১

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের অধিকাংশ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে। অধিকাংশ ভবন জরাজীর্ণ ও স্যাঁতস্যাঁতে। রয়েছে জনবল ও সরঞ্জামের অভাব। এছাড়া ঔষধ সংকট দিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। বিশেষ করে নিরাপদ মাতৃত্ব সেবাদান একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৮টি ইউনিয়নের ৯টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে দুইটি রয়েছে মূলঘর ইউনিয়নে। এরমধ্যে একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র্র রয়েছে পিলজংগ ইউনিয়নে।

জানা গেছে, একমাত্র বেতাগা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারী করা হয় না। কেন্দ্রে স্যাকমো ও এফডাব্লিউভি থাকলেও অনেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হওয়ায় নরমাল ডেলিভারী হচ্ছে না। তাছাড়া নেই স্বাস্থ্য সম্মত কক্ষ বা পরিবেশ। স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো ২৪/৭ সেবার আওতায় থাকলেও তা সঠিকভাবে পালন করা হয় না।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার কারনে দীর্ঘদিন যাবৎ ভবনগুলো সংস্কার না করায় অধিকাংশ ভবন বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। বিশেষ করে গোদাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ভবনটি রয়েছে অত্যান্ত ঝুঁকির মধ্যে। এছাড়া রয়েছে অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অভাব। এখানে ঔষধ সংকটও রয়েছে চরমে।

মূলঘর গোদাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্যাকমো মো, নওসের আলী জানান, যে কোন মুহুর্তে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। বর্তমানে নানা সমস্যার কারনে চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশেঅনিচ্ছুক কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী জানান, নানা সমস্যায় ভূগছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো। বিশেষ করে নরমাল ডেলিভারীর ক্ষেত্রে অধিকাংশ গর্ভবতী মায়েরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সমুখী হয়ে পড়েন। তাছাড়া ডিএসএফ কার্ড করার সুবিধার জন্য গর্ভবতী মায়েরা সরকারি হাসপাতালে যান।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পলাশ কুমার বিশ্বাস জানান, আমাদের জনবলের ঘাটতি অনেকটায় পুরণ হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার মান আগের তুলনায় ভাল হয়েছে। ভবনের সংস্কারের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের সাধারণ চিকিৎসা দেয়া হয়। অচিরেই সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাভাবিক ডেলিভারীর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads