ফসলি জমিতে ইটভাটা বন্ধের দাবী কৃষকদের

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

ফসলি জমিতে ইটভাটা বন্ধের দাবী কৃষকদের

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৫ জানুয়ারি, ২০২০

অনুমোদন ছাড়াই লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে ইটভাটা। কৃষকরা ওই ভাটা বন্ধের দাবীতে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নামুড়ি চন্দ্রপুর গ্রামের বারবিষার দোলায় বছরে তিনটি বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন গ্রামের কয়েক’শ কৃষক পরিবার। কৃষকদের চাষাবাদে সেচ সুবিধা দিতে বারবিষার দোলায় একাধিক সেচ পাম্প স্থাপন করেছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবছর তিনটি ফসল ঘরে তুলে বেশ সুখেই ছিলেন কৃষকরা। হঠাৎ চলতি মাসে ওই দোলার নামুড়ি চন্দ্রপুর গ্রামে জনৈক সালামের এক একর জমি চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে একটি ইটভাটা নির্মাণের কাজ শুরু করেন লালমনিরহাট শহরের নামাটারী এলাকার ইট ব্যবসায়ী এন্তাজ আলী। জমি ফাঁকা পেয়ে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের না জানিয়ে কৃষকদের জমির ওপর ভাটার মাটি ফেলে স্তুপ করে। পরে কৌশলে অভাবি কয়েকজন কৃষককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে। ফলে অনেক কৃষক চলতি ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ করতে পারছেন না।

সম্প্রতি স্থানীয় কৃষকরা ফসলি জমির ওপর ইটভাটা নির্মাণের প্রতিবাদ এবং ভাটাটি বন্ধ করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের ১০দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সুফল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

এ ব্যাপারে ভেলাবাড়ি গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম মিঠু ‘বাংলাদেশের খবর’কে বলেন, ওই দোলার জমির ফসল দিয়েই আমাদের পুরো পরিবারের সংসার চলে। ভাটার পাশেই আমাদের ৬০ বিঘা জমিতে বছরে তিনটি ফসলের চাষ হয়। ইরি-বোরোতে প্রতি শতাংশে এক মণের বেশি ধান ফলে। ওই জমির পাশে ইটভাটা করায় আগামীতে ফসলহানির আশঙ্কা করে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। কিন্তু ভাটা মালিক কোনো কর্ণপাত না করেই চালিয়ে যাচ্ছে নির্মাণকাজ।

নামুড়ি চন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক সোবহান আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন ফসলি জমি নষ্ট করে কোনো কারখানা গড়ে তোলা যাবে না। আমাদের ফসলি জমির ওপর ইটভাটা হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে সরকারি বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।

তবে ভাটা মালিক এন্তাজ আলী বলেন, সবেমাত্র ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। আগুন দেওয়ার আগে পরিবেশ অধিদফতরসহ সব বিভাগের অনুমোদন নেয়া হবে। ফসলি জমিতে ইটভাটার অনুমতি নেই এমন প্রশ্নে তিনি জোর গলায় বলেন, প্রশাসন অবশ্যই অনুমতি দিবেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আলীনুর রহমান বলেন, ফসলি জমির ওপর ইটভাটার অনুমোদন দেওয়া হয় না। ভাটা যদি ফসলি জমির ওপর হয় তাহলে অনুমোদন দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ফসলি জমি নষ্ট করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে। ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের বিষয়ে কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads