মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে করা মামলা নাটকীয় মোড় নিচ্ছে। রোববার পিয়াসার দুদিনের রিমান্ড চেয়েছে পিবিআই। আদালত সেই রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। জানা গেছে, পিয়াসাকে রিমান্ডে নেওয়ায় এই মামলাটি নতুন মোর নিতে পারে। পিয়াসাকে মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। যদিও দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, পিয়াসার বাসায় রাতের যে আসর বসত, সেই আসরে যে নারীদের আনা হতো তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল মুনিয়া। পিয়াসার কল রেকর্ড অনুসন্ধান করে নুসরাতের সঙ্গে পিয়াসার একাধিক কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে পিয়াসার রিমান্ড চেয়েছে পিবিআই। পিয়াসার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, পিয়াসার বাসায় অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তিরা আসতেন এবং সেখানে সারারাত ধরে পার্টি হতো। পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্ছৃঙ্খল নারীকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। এটিই ছিল পিয়াসার উপার্জনের অন্যতম পথ। ধারণা করা হচ্ছে, পিয়াসার সঙ্গে নুসরাতের যোগাযোগ হতো। আর এই যোগাযোগ হতো মুনিয়াকে কেন্দ্র করেই।
অভিযোগ রয়েছে, পিয়াসা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য নারীদের ব্যবহার করতেন। এসব মেয়ে শুধু শোবিজ তারকা ছিল তা না, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার এবং উঠতি বয়সি তরুণীদেরও পিয়াসার আসরে নিয়ে আসা হতো। মুনিয়া ছিল নুসরাতের অর্থ উপার্জনের অন্যতম হাতিয়ার। ধারণা করা হচ্ছে, মুনিয়াকে পিয়াসার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন নুসরাত। আর মুনিয়াকে ব্যবহার করেই নুসরাত আর্থিকভাবে লাভবান এবং বিভিন্ন মহলে তাকে ব্যবহার করতেন। আর ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের কাছে মুনিয়া যেতেন তাদের নুসরাত ব্ল্যাকমেইল করতেন। তদন্তকারীরা পিয়াসার সাথে মুনিয়ার সম্পর্ক ও নুসরাতের যোগসূত্র খুঁজছেন।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, পিয়াসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই সম্পর্কে ঘটনার আদ্যোপান্ত বেরিয়ে আসবে। পিয়াসাই এই মামলার নুসরাতের সংশ্লিষ্টতার একটি বড় প্রমাণ হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল গুলশানে একটি ফ্ল্যাটে মুনিয়া মারা যায়। মৃত্যুর পর তার বোন নুসরাত আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ তিন মাস তদন্ত করার পর এই মামলাটি নাকচ করে দেয় এবং আত্মহত্যার কোনো প্ররোচনা হয়নি বলে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মন্তব্য করে। এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার পর নুসরাত নারাজি দরখাস্ত দেন। পরবর্তীতে তিনি একটি নতুন মামলা দায়ের করেন। সেখানে তিনি হত্যা এবং ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করেন। সেই মামলার জট খুলতেই এখন পিয়াসাকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।





