বগুড়ার হাসপাতালগুলোতে চলছে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনই মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা আগের দিনকে অতিক্রম করছে। হাসপাতালে বাড়ছে রোগির চাপ। করোনা ডেডিকেটেড বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল ও বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেল ২৪ ঘন্টায় জেলায় রেকর্ড ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়ে বলেছে, অপর ২ জন ২৪ ঘন্টা সময়ের পরে মারা গেছেন। মারা যাওয়াদের মধ্যে বগুড়ার ৬ জন, জয়পুরহাটের ৪ জন এবং গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁর ১ জন রয়েছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন. গ্রাম পর্যায় থেকে গুরুতর অবস্থায় এসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং করোনার সঙ্গে তাদের বিভিন্ন রোগ ছিল। অপর দিকে এতো বেশি সংখ্যক করোনা রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় বগুড়ার হাসপাতাল গুলোতে হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলার সংকটের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। হাসপাতালগুলোতে থেকে হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলার প্রয়োজনের বিষয়টি ইতোপুর্বে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তা সমাধান হয়নি।
বগুড়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানান, হয়েছে ২৪ ঘন্টায় বগুড়ায় নতুন করে আরো ১শ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় ৩৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এই ১শ’ জন শনাক্ত হন। শনাক্তের হার ২৬।
হাসপাতাল সুত্র জানায়, বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ৭ জন এবং বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন মারা যান। তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা সকাল ৮ টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা ধরেন। আর মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে শুক্রবার সকাল ৮টার পর আরো ২ জন মারা যান। অপর দিকে বগুড়ার ৩টি হাসপাতালে করোনা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রোগি ছিল ৪১৩ জন। এরমধ্যে বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে রোগী রয়েছে ২২৩ জন। যা এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গেল ২৪ ঘন্টায় সেখানে ৫৭ জন করোনা রোগী ভর্তি হন। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই হাসপাতালে শয্যা খালি ছিলো মাত্র ২টি।
বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান, গত কয়েক দিন ধরে গ্রাম এলাকা থেকে রোগী বেশি আসছে। করোনা হিসাবে প্রথম পর্যায়ে এসব রোগী গুরুত্ব না দিয়ে একেবারে গুরুতর পর্যায়ে এসে হাসপাতালে আসছেন। করোনার সঙ্গে বিভিন্ন রোগসহ তুলনামুলক বয়সী এসব রোগীর অনেকেই মারা যাচ্ছেন। সর্বশেষ বগুড়ার যে ৬ জন করোনা রোগী হাসপাতালে মারা যান, তাদের মধ্যে ৫ জনই গ্রাম এলাকায়। এদের মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও শেরপুর উপজেলার ২ জন করে এবং সারিয়াকান্দি উপজেলার ১ জন রয়েছেন। অন্য একজন ছিলেন বগুড়া সদর এলাকার।
বগুড়া মোহাম্মাদ আলী ও মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের একাধিক চিকিৎসক বগুড়ার করোনা পরিস্থিতিকে আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, পরিস্থতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক উদ্বেগের কথা তুলে ধরে জানান, শুক্রবার হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে আসা ১১ জন রোগীকে র্যাপিড এ্যান্টিজেন টেস্ট করা হলে ৭ জন করোনা শনাক্ত হন। এদিকে বগুড়া সিভিল সার্জন মো. গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, হাসপাতালে হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলার অপ্রতুলতা রয়েছে। বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে বর্তমানে ২টি হাই ফ্লো নজেল ক্যানোল সক্রিয় রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আরো ১০টি হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা চেয়ে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয়েছে। অপরদিকে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছেন,তাদের আরো হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা প্রয়োজন। বর্তমানে সেখানে কার্যক্ষম হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা রয়েছে ১১টি। এদিকে প্রতিদিন বগুড়ার হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীর চাপ বাড়ছে।
বগুড়ার সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, শয্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে সর্বশেষ ২০টি শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। এর পর সেখানে আর শয্যা বাড়ানো যাবে না। একারণে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে আরো ১৫০টি শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২/১ দিনের মধ্যে বর্ধিত ৭০টি শয্যা চালু হচ্ছে। এব্যাপারে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উপ পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, করোনা ইউনিটের বাইরে এখন মেডিসিন বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে করোনার জন্য শয্যা বাড়ানো হচ্ছে।





