জাতীয়

বন্যায় আতঙ্ক বাড়ছে নিম্নাঞ্চলে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৪ অগাস্ট, ২০২১

দেশের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আতঙ্ক বাড়ছে নিম্নাঞ্চলের সাধারণ মানুষের। ইতোমধ্যে আরো পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পদ্মা ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কথা জানান। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও ধরলা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। যমুনার পানি বাড়ছে এবং পাড়ে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে জানান সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষাবাঁধ পয়েন্টের দায়িত্বে থাকা গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ।

এদিকে গতকাল বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে গঙ্গা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে ও পদ্মানদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও শরিয়তপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।

এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় পদ্মানদীর ভাগ্যকুল পয়েন্টে এবং শীতলক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের তথ্য অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের স্থানগুলোতে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। এর ফলে এই অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র এবং আপনার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে গতকাল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

কুড়িগ্রামে তলিয়ে গেছে ৩ হাজার হেক্টর আমন : কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও ধরলা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল ও কাঁচা রাস্তা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। ফলে নদীপারের মানুষ পড়েছে বিপাকে।

গতকাল স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বৃষ্টিপাত কম থাকায় নদ-নদীর পানি আর বাড়ার আশঙ্কা কম।

কুড়িগ্রাম কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নদ-নদীর পানিবৃদ্ধির ফলে জেলার বিভিন্ন নদীর অববাহিকায় শুধু ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমির আমন আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে, তা পরে জানা যাবে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক জানান, জেলায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমির রোপা আমন আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হবে না আমনচাষিদের।

যমুনার পানি বাড়ছে, পাড়ে ভাঙন আতঙ্ক : ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে জেলার শহর রক্ষাবাঁধ পয়েন্টে যমুনার পানি তিন সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নদী পাড়ের হাজারো মানুষ। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে পাড়ের বাসিন্দাদের।

গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষাবাঁধ পয়েন্টের দায়িত্বে থাকা গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ এ তথ্য জানান।

এদিকে কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টের (পানি পরিমাপক) ওমর ফারুক জানান, যমুনা নদীর পানি মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ গো-চারণভূমি ও সবুজ ঘাস। ফলে দুই লক্ষাধিক গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়িতে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে পশুগুলো। এতে নানা ধরনের রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, তেকানি, মুনসুরনগর ও খাসরাজবাড়ি ইউনিয়ন এবং চৌহালী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা। নদীর পাড় থেকে ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন দুর্গতরা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনার পানি আরও দুই-একদিন বাড়তে পারে। এ সময়ের মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রমও করতে পারে।

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর রাখছি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো বিতরণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads