বরগুনা প্রতিনিধি:
সাংবাদিক তালুকদার মাসউদ হত্যা মামলার সাত আসামীর রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে বুধবার, (২০ মার্চ) বরগুনা অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিত হাকিম আদালতের বিচারক মোঃ হারুন অর রশীদ আসামীদের রিমান্ড মঞ্জু করেন। এছাড়াও একইদিনে আসামীদের জামিন আবেদনেরও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো আদেশ দেয় আদালত।
সাংবাদিক মাসউদ তালুকদার হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার উপ পরিদর্শক মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, মামলায় জেল হাজতে থাকা সাত আসামীর পাঁচদিন করে রিমান্ড চেয়ে গত সোমবার আদালতে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত বুধবার (২০ মার্চ) শুনানীর তারিখ ধার্য করেছিল। শুনানী শেষে ৩নং আসামী দৈনিক সংবাদ প্রকাশ পত্রিকার বরগুনা প্রতিনিধি কাসেম হাওলাদার ও সময় টিভির বরগুনা প্রতিনিধি মামলার ৫নং আসামী সাইফুল ইসলাম মিরাজকে থানা হাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার বাকী ৫ আসামী এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক (বরগুনা) সোহেল হাফিজ, তার (এনটিভির) ক্যামেরা পার্সন আরিফলু ইসলাম মুরাদ, বাংলা নিউজের বরগুনা প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম মেহেদি, দৈনিক আজকের দর্পন পত্রিকার ওলি উল্লাহ ইমরান ও তাদের সহযোগী সোহাগ হাওলাদারকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বাদী পক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী মোঃ নেসার উদ্দীন জানান,গত সোমবার আসামীদের পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করার পর বুধবার (আজ) শুনানীর জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছিল আদালত। শুনানী শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এছাড়াও মামলার ১২নং আসামী মোঃ শহিদুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো আদেশ দেন।
আসামী পক্ষের আইনজীবী মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, ‘আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছে। পরবর্তীতে আমরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করব। নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে উচ্চা আদালতে জামিন আবেদন করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বরগুনা প্রেসক্লাবে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের ১১ দিন পর ২মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক তালুকদার মাসুদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৪ মার্চ নিহতের স্ত্রী সাজেদা বাদি হয়ে বরগুনা সদর থানায় ১৩ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তালুকদার মাসউদ ‘দৈনিক ভোরের ডাক’ পত্রিকার বরগুনা প্রতিনিধি ও সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছিলেন।





