বশেমুরবিপ্রবি’র কম্পিউটার চুরির ঘটনায় একের পর এক নাটকীয়তা

ফাইল ছবি

সারা দেশ

বশেমুরবিপ্রবি’র কম্পিউটার চুরির ঘটনায় একের পর এক নাটকীয়তা

  • গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৪ অগাস্ট, ২০২০

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রতি) কম্পিউটার চুরির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা ঘটে চলেছে। সম্প্রতি তদন্ত কমিটির এক সদস্যকে অব্যাহতি ও অপর এক সদস্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। শুধু তাই নয় এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রক্টর কর্তৃক রেজিষ্টারকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় নাটকীয়তা আরো ভিন্নতা পেয়েছে ।

হুমকি দেয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ নূরউদ্দিন আহমেদ আজ রোববার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহানের কাছে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়েও চলছে ইঁদুর-বিড়াল খেলা । কেউই সাংবাদিকদের ফোন ধরছেন না। আবার কারো কারো ফোন ধরলে এ বিষয়ে তারা কেউ কিছু জানেন না বলে জানান।

এর আগে, প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানকে হুমকি দেয়ায় তিনি সহকারি রেজিস্টার মো. নজরুল ইসলামের নামে গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে, কম্পিউটার চুরির বিষয়ে তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল গত বৃহস্পতিবার। কিন্তু নানা নাটকীয়তার কারণে শেষ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি গঠিত তদন্ত কমিটি।

কমিটির প্রধান সাংবাদিকদেরকে বলেছেন তারা দুইজন সদস্যকে সংযুক্ত করার পরে সুবিধাজনক সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

আজ রোববার যদিও অব্যাহতি ও পদত্যাগী দুই সদস্যের পরিবর্তে শিক্ষার্থী উপদেষ্টা ড. মোঃ শরাফত আলী ও উপ-পরিচালক (পউও) তুহিন মাহমুদকে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও দ্বিধাবিবক্ত হয়ে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে বিষেদগার করতে ছাড়ছেন না। আর এসব বিষয়ে গোপালগঞ্জের সাধারণ শিক্ষানুরাগীরাও বিরক্তি প্রকাশ করছেন। তাদের দাবী, এসব জঞ্জাল পরিস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সুশৃংখল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষ ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেবেন। কেননা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যেসব রশি টানাটানি চলছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে এমনটি ধারনা সাধারণ মানুষের।

উল্লেখ্য, ঈদের ছুটির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছন দিকের জানালা ভেঙে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১০ আগষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. প্রফেসর নূরউদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন। গোপালগঞ্জ সদর থানার মামলা নং-২০।

গত ১৩ আগস্ট ঢাকার ক্রিস্টাল ইন হোটেল থেকে চুরি যাওয়া ৪৯ টি কম্পিউটারের মধ্যে ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় দুলাল ও হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় গোপালগঞ্জ ও নড়াইল থেকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মাসরুল ইসলাম পনি শরীফসহ আরো ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৫ আগস্ট গ্রেপ্তার ৭ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এর আগে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ায় এ সংক্রান্ত মামলার আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads