সারা দেশ

বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধে আবারও ভাঙন, শঙ্কিত উপকূলবাসী

  • ''
  • প্রকাশিত ৪ অগাস্ট, ২০২৪

তাফহীমুল ইসলাম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:


২৯৩ কোটি টাকার নির্মাণ কাজ শেষের বছর না যেতেই আবারও ভাঙনের কবলে পড়েছে বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধের বাহারছড়া, খানখানাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে হঠাৎ করে জোয়ারের পানির স্রোতে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। খানখানাবাদের কদমরসুল এলাকায় গত বছর ভাঙনের সৃষ্টি হলে জরুরী ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জরুরী ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে এই ভাঙনরোধ করার কথা থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাস আগে খানখানাবাদ ইউপির বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশের ভাঙনরোধে প্রায় ৩৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে পাউবো। এক মাসের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ করার কথা থাকলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে চার মাসেও এই কাজ শেষ হয়নি। ৩৫ হাজারের মধ্যে এখনও মাত্র ৬/৭ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। পাউবোর এই ধীরগতির কারণে বেড়িবাঁধে পুনরায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। জিওব্যাগ ফেলার এই কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা পাউবোর কর্মকর্তারা কর্মস্থলে না থেকে শহরে অবস্থান করে কাজ দেখভাল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে জানা যায়, খানখানাবাদ ইউপির বেড়িবাঁধের এক নং ওয়ার্ড থেকে দুই নং ওয়ার্ডস্থ হাছিয়া পাড়া, হাছিয়া পাড়া থেকে প্রেমাশিয়া মৌলভী পাড়া, রায়ছটা আট নং ওয়ার্ডের মোকামী পাড়া তিন রাস্তার মোড় থেকে পূর্ব রায়ছটা নয় নং ওয়ার্ড ঈশ্বর বাবুর হাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে ভেঙে ও ধেবে গিয়েছে। কোন কোন জায়গায় সরে গেছে ব্লক ও জিওব্যাগ। এমন পরিস্থিতিতে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করার আতঙ্ক নিয়ে নির্ঘুম রাত যাপন করছে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার আন্তরিক হয়ে বারবার বেড়িবাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ দিলেও কাজ যথাযথভাবে হয় না। যার কারণে প্রতি বছর ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ কষ্ট পায়। তাই বরাদ্দ প্রদানের পাশাপাশি নির্মাণ কাজের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করতে হবে। তবে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য খুশির খবর হচ্ছে, বাঁশখালী-আনোয়ারা উপকূলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ রক্ষায় ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বিশাল বরাদ্দ গত ২৮ মে একনেকের সভায় অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে ৫৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধে। এই বর্ষা মৌসুম শেষে বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপকূলীয় এলাকায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

খানখানাবাদ ইউপির দুই নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বলেন, কয়েক মাস আগে বেড়িবাঁধের ভাঙন কবলিত অংশে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজ শুরুর তিন মাস অতিক্রম হয়ে গেলেও সেই কাজ শেষ হয়নি। পাউবোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এখানে আসেনও না। কাজে ধীরগতির কারণে এখন বেড়িবাঁধে আবারও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার মানুষ জোয়ারের পানির আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে।

খানখানাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন হায়দার এব্যাপারে বলেন, খানখানাবাদ ইউপির বেড়িবাঁধের ভাঙনের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বেড়িবাঁধ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, খানখানাবাদ ইউপির বেড়িবাঁধে জরুরী ভিত্তিতে ৩৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম এখনও চলমান আছে। যতটুকু কাজ করবে ঠিকাদারকে ততটুকু বিল পরিশোধ করা হবে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক স্যারকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি জানিয়েছেন।

বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, আমি ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছি। বাঁশখালী উপকূলবাসীকে এই মরণফাঁদ থেকে বাঁচাতে এখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

এব্যাপারে বাঁশখালীর সাংসদ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার কার্যক্রম অচিরেই শুরু হবে। অতীতে এই বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিয়মের কারণে মানুষ অনেক কষ্ট পেয়েছে। তাই কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বলে দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে যাবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads