ক্রিকেট

বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক জয়ে সিরিজ লাভ

  • তারিক আল বান্না
  • প্রকাশিত ৭ অগাস্ট, ২০২১

কোনো উইকেট পাননি মোস্তাফিজুর রহমান। তার  বোলিং ফিগার ‘৪-০-৯-০’। তার এই মিতব্যয়ী বোলিংয়েই কূপোকাত অস্ট্রেলিয়া। অসাধারণ ম্যাচ, অসাধারণ জয়। বিশ্বের অন্যতম সেরা দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় করল টাইগাররা। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে বাংলাদেশ ১০ রানে জয়লাভ করে। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ২৩ রান ও ৫ উইকেটে জয়ী হয়। দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ৯ উইকেটে ১২৭ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া পুরো ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১১৭ রান করে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক জয়ে ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ। শাবাশ লাল-সবুজের দেশ, শাবাশ বাংলাদেশ।  এনিয়ে দুদলের মধ্যকার ৭ ম্যাচে বাংলাদেশ ৩টি এবং অস্ট্রেলিয়া ৪টি জয়লাভ করেছে।  

১২৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় মাত্র ৮ রানের মাথায় প্রথম ইউকেট খোঁয়ায় অজিরা। নাসুমের বলে শরিফুলের তালুবন্দি হন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড (১)। তবে দ্বিতীয় জুটিতে ম্যাকডারমট ও মার্শ দারুণ আস্থার সঙ্গে খেলতে থাকেন। মাহমুদউল্লাহ একাধিক বোলার ব্যবহার করেও জুটি ভাঙতে পারছিলেন না। দলীয় ৬৮ রানের সময় মোস্তাফিজের বলে ম্যাকডারমটের তুলে দেওয়া সহজ ক্যাচ লুফে নিতে ব্যর্থ হন শরিফুল। দলীয় ৭১ রানের মাথায় সাকিবের বলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। সাকিবের বলে সরাসরি বোল্ড হন ম্যাকডারমট। তিনি ৪১ বলে ২টি ছয়ে ৩৫ রান করেন। দলীয় ৭৪ রানের সময় হেনরিক্স (২) শরিফুলের শিকার হন। তার বলে হেনরিক্স ধরা পড়েন শামীমের হাতে। দলীয় ৯৪ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে অজিদের। শরিফুলের বলে মার্শ ধরা পড়েন নাঈমের বলে। মার্শ ৪৭ বলে ৬টি চার ও ১টি ছয়ে ৫১ রান করেন। অ্যালেক্স কারে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের শরিফুল ২৯ রানে ২টি এবং নাসুম ও সাকিব ১টি করে উইকেট লাভ করেন। 

এর আগে, টস জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুর পাওয়ার প্লের ফায়দা নিতে পারেনি বাংলাদেশ। অ্যাস্টন টার্নারের প্রথম ওভারে শুরুটা ছিল নড়বড়ে। সৌম্য সরকারের কঠিন ক্যাচ হাতের নাগাল পাননি অ্যালেক্স ক্যারি। তবে দ্বিতীয় ওভারে হ্যাজেলউডের গ্লাভসবন্দি হয়ে ফিরে যান নাঈম। মাত্র ১ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

পরের ওভারে জাম্পার ঘূর্ণির বলি হন সৌম্য (২)। ধীরগতির পিচে পাওয়ার প্লেতে পর্যাপ্ত রান না আসায় এরপর কৌশলি ক্রিকেট খেলতে থাকেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব। সম্ভাবনাময় হয়ে উঠার পথেই এই জুটিতে আঘাত হেনেছেন অ্যাডাম জাম্পা। ৮.১ ওভারে তার ঘূর্ণি বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে লং অফে তালুবন্দি হন সাকিব। ১৭ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৬ রানে ফিরে যান এই অলরাউন্ডার। 

এরপর অবশ্য আফিফ-মাহমুদউল্লাহ মিলে রানের চাকা সচল রাখছিলেন। অস্ট্রেলিয়ানদের মাথা ব্যথার কারণও হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন দুজন। শেষ পর্যন্ত রানের প্রান্ত বদল করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন আফিফ। রান আউটে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন ১৯ রানে। তার ১৩ বলের ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ১টি ছয়।

হঠাৎ ছন্দপতনে খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি শামীম হোসেন। উড়িয়ে মারতে গিয়েই সাজঘরে ফিরেছেন ৮ বলে ৩ রান করে। 

এরপর নুরুল হাসানও ফিরে গেলে চাপে পড়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু একপ্রান্ত আগলে রান যোগানের সেই চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করেন মাহমুদউল্লাহই। দেখা পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরির। ৫৩ বলে ৪টি চারে ৫২ রানের ইনিংস খেলে এলিসের বলে ফিরে যান শেষ দিকে। অভিষিক্ত এলিস তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাট্রিক। মাহমুদউল্লাহর পর ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসানকে।

৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন অভিষিক্ত পেসার নাথান এলিস। দুটি করে নিয়েছেন জশ হ্যাজেলউড ও অ্যাডাম জাম্পা।

বাংলাদেশ ও সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চতুর্থ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার। এরপর সোমবার সিরিজের বাকি ম্যাচটি একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads