বিএসটিআইয়ের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত যেসব প্রতিষ্ঠান ঢাকার বাজারে দুধ সরবরাহ করে তাদের নামের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ তালিকা দিতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আজ রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বিএসটিআই বলছে, মাত্র ১৮ প্রতিষ্ঠান পাস্তুরিত দুধ বিক্রি করতে তাদের লাইসেন্স নিয়েছে।
বিএসটিআইয়ের পক্ষে আইনজীবী সরকার এম আর হাসান (মামুন) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।
তিনি জানান, উল্লেখিত দুধ ও দইয়ের প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নামসহ ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির প্রধান প্রফেসর ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী তার গবেষণা রিপোর্ট গত ২১ মে সকালে সশরীরে উপস্থিত হয়ে হলফ মূলে আদালতে জমা দেন। এ বিষয়ে সেদিন কেমিক্যালযুক্ত দুধ-দই প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান বা মালিকের নামসহ রিপোর্টটি জমা দেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল।
সেই ধার্য দিনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম ও বিএসটিআই'র আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান (মামুন) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দুদকের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব আদালতকে জানান, দুদক নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইর কাছে দুদক চিঠি দিয়ে নাম জানতে চান।
এর আগে আদালত গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির প্রধান প্রফেসর ডা. শাহনীলা ফেরদৌসীকে নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে তার গবেষণালব্ধ রিপোর্টটি আদালতে জমা দিতে বলেছিলেন। তিনি তখন নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট জমা না দেয়ায় গত ১৫ মে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।
এরপর গত ২১ মে আদালত বলেন, প্রফেসর ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী অভিঙুক্ত নন। আদালতকে সাহায্য করার জন্য তাকে আনা হয়েছে। এ সময় আদালতে প্রফেসর শাহনীলা ফেরদৌসী জানান, ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি ইউরোপিয় ইউনিয়ন ও নেদারল্যান্ডের অর্থায়নে এই গবেষণা কাজ করেন। ২০১৫ সন থেকে তারা এ গবেষণা কাজ করে আসছেন। তাদের গবেষণায় দইয়ের ৩০টি, পশু খাদ্যের ৩০টি, প্যাকেটজাত দুধ ৩১, (র-ম্যাটিরিয়ালর্স) নমুনা কাউ মিল্ক ৯৬টির কোম্পানি ও ব্যক্তি বিশেষের নাম উল্লেখ আছে।
আদালত চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার ও দৈনিক কালের কণ্ঠে দুধ-দইয়ে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার অণুজীব, কীটনাশক, সিসা, গরুর দুধেও বিষের ভয় শিরোনামে রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল দিয়েছিলেন এবং তিন মাসের মধ্যে কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।
গত ৮ মে কোর্টে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানান, তারা ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করেছেন। কোর্ট এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে রিপোর্ট দিতে বলেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই মামলার শুনানি হয়।
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি তাদের এক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী গরুর দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, দইয়ে ক্ষতিকর সিসা ও গো-খাদ্যেও মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া গেছে বলে জানায়। এ বিষয়গুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক, মানুষের কিডনি, লিভারসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ কারণেই আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে জনস্বার্থে এই রুল জারি করেছিলেন।





