নাম আকরাম হোসেন বাদশা। সব সময় অসহায় প্রতিবন্ধী অসচ্ছল দরিদ্রদের নিয়ে তার ভাবনা। একটু সুযোগ পেলেই হাত খুলে দান করেন তিনি। নিজের খামারে উৎপাদিত মাছ ডিম দুধ এ করোনার মহামারিতে অসচ্ছল দরিদ্র পথ মানুষের হাতে নিয়মিতই তুলে দেন। তবে এবার তিনি জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে দিচ্ছেন ঝুড়ি ভর্তি ফল ফলাদি। সবাই এ উপহার দেওয়াকে বাদশার বাদশাহী উপহার বলে মন্তব্য করেন।
আজ রোববার গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নে করোনাকালীন ঈদ সামগ্রী হিসেবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি উপহারের ঝুড়ি পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বাদশা। বিকালে এ সব উপহার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে তিনি নিজেই বিতরণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রহল্লাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেন বাগমারের ছেলে আকরাম হোসেন বাদশা। তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবী ও ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন তিনি যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে মৎস্য, ডেইরি, পোল্ট্রি মিলিয়ে বহুমুখি খামার গড়ে তোলেন। তাতে এলাকার অনেক বেকারদের কর্মসংস্থান করেন তিনি।
তারা আরো বলেন, আকরাম হোসেন বাদশা নিয়মিত দরিদ্র অসচ্ছল মানুষের সাহায্য করে থাকেন। প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে তার বিশেষ সহায়তা ফান্ড। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ও ঈদে তাদের আনন্দের জন্য তাদের নিয়ে বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান করে থাকেন। আজ নিজেই উপহারের ঝুড়ি নিয়ে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হাজির হন বাদশা।
একাধিক অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা জানান উপহারের এক একটি ঝুড়িতে ছিল ডিম, কলা, আপেল, মাল্টা, খেজুর, দুধ, পোলাউ চাল সেমাই চিনিসহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী। ঈদকে সামনে রেখে এ সব উপহার পেয়ে অনেকেই দারুন খুশি। তাঁরা বলেন উপহার পাওয়া সব সময় আনন্দের হয়।
উপজেলার তেলিহাটি চৌরাস্তার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক গত হয়েছেন ৬ মাস আগে। স্ত্রী হাজেরা খাতুন বর্তমানে নিজেই সন্তানদের আগলে রেখে সংসার চালাচ্ছেন। সন্ধ্যায় এ সব উপহারের ঝুড়ি হাতে পেয়ে তিনি খুশিতে আপ্লুত।
তিনি বললেন, ’এই মানুষটার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক’।
উদয়খালি গ্রামের সন্ধ্যা রানী, তালতলী গ্রামের মাজেদা খাতুন, সাইটালিয়া গ্রামের ইদ্রিস আলী এসব উপহার পেয়ে বলেছেন ‘করোনার এই সময় এমন উপহার পাওয়াটা ব্যতিক্রম’।
আকরাম হোসেন বাদশা বলেন, করোনার এমন দুঃসময়ে বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করা শ্রেষ্ঠ এই মানুষদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তাদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এসব উপহার ঝুড়িতে করে পাঠানো হয়েছে। আশা করি বিপর্যস্ত এ সময়ে উপহারগুলো এ সব পরিবারের একটু হলেও কাজে লাগবে।





