রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশ কাণ্ডে ৩৪ কর্মকর্তা জড়িত বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
আজ বুধবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে কক্ষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিকাদারী কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেছেন, তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনায় ৩৪ জন কর্মকর্তা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কিছু ঠিকাদারী কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এর মধ্যে ৪ জন কর্মকর্তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত। তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আমরা লিখেছি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্তরের কর্মকর্তারে মধ্যে ১ জন কর্মকর্তা অবসরে এবং ৩ জন কর্মকর্তা পিআরএলে গেছেন। তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে আমরা লিখেছি। যারা কর্মরত আছেন তাদের মধ্যে ১৬ জনকে গুরুতর অভিযোগের কারণে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলা হয়েছে। অন্য ১০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় মামলা রুজু হবার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ১ জন কর্মকর্তার ব্যাপারে তদন্ত কমিটি সম্পৃক্ততা পায়নি বিধায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে”।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। সরকারের অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। যেখানেই অনিয়ম-দুর্নীতি, তার বিরুদ্ধেই আমাদের কঠোর অবস্থান। আমরা চাই দেশে উন্নয়নের গতিকে ধ্বংস করার ভয়াবহ ব্যাধি দুর্নীতি যেন না থাকে। এ লক্ষ্যে আমার মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, রূপপুরের গ্রীন সিটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ে ও ভবনে ওঠানোর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটির তদন্ত পরিসরের ব্যপ্তি করে দিয়ে বলেছি অন্যায়ভাবে কোনো নির্দোষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট কেউ যেন অভিযুক্ত না হয়, পাশাপাশি বলেছি যত বড় ক্ষমতাসম্পন্ন বা দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি হোন না কেনো তার দায়ভার পেলে তাকে যেনো অনুকম্পা দেখানো না হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, আমাদের এই সিদ্ধান্ত দুর্নীতিকে না বলার জন্য জিরো টলারেন্সের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত। যারা অনিয়মে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন তারে জন্য এটা একটা বার্তা যে, দায়িত্বশীল পদে থেকে রাষ্ট্রের অর্থের অপব্যবহার বা নিজের সুবিধা নেওয়া বা কাউকে পাইয়ে দেয়ার ঘটনাকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
শ ম রেজাউল করিম ব্রিফিয়ে আরো যোগ করেন, তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ ঘটনায় অতিরিক্ত ছত্রিশ কোটি চল্লিশ লাখ নয় হাজার টাকা নিয়েছে। সেই অর্থ উদ্ধারের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছি। ঠিকাদারদের অন্যান্য কাজে পাওনা বিল থেকে এ টাকা কেটে রাখা হবে। কোনোভাবেই রাষ্ট্রের একটি টাকাও আত্মসাৎ করতে পারবে না। এছাড়া ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা দুর্নীতিতে জড়ায় তারে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা উচিত নয়। এটি সকল ঠিকারদারদের জন্য বার্তা, অন্যায় করলে ব্যবসা করা যাবে না এবং সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা যাবে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
প্রায়ই অভিযোগ উঠে তদন্ত আলোর মুখ দেখে না বা তদন্তের প্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে আমাদের গৃহীত ব্যবস্থা সব মানুষ জানবে এবং অপরাধীদের কোনরকম ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, টেন্ডার সংক্রান্ত সব অনিয়ম আমরা খতিয়ে দেখবো। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দৃষ্টি আসলে যেকোন অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। কোথাও কোনো অনিয়ম থাকলে আমাদের জানার সুযোগ করে দিন।





