আব্দুল লতিফ তালুকদার, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
ভূঞাপুরে যমুনা নদী ঘিরে তৈরি হওয়া অবৈধ বালুর ঘাট দখলে নিতে মরিয়া স্থানীয় প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিরা। আর এই দখল নেয়াকে কেন্দ্র করে মারামারি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে যমুনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলণের ফলে ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ, আঞ্চলিক ও মহাসড়কগুলো। এছাড়া বালুবাহী লাইসেন্সবিহীন ১০ চাকার হাইড্রোলিক ট্রাকে প্রাণ হারিয়েছে অনেকেই। এতোকিছুর পরও এসব অবৈধ বালুর ঘাট চলছে দেদার।
জানা গেছে, উপজেলার নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নে যমুনা নদী ঘিরে প্রায় ২৫টি অবৈধ বালুর ঘাট তৈরি হয়েছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব ঘাট থেকে শত শত ট্রাকযোগে বালু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। এর আগে ওই ঘাটগুলোতে যেতে যাতায়াতের রাস্তা তৈরি হয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষের পুকুর ভরাট করে। বালুর ট্রাক বঙ্গবন্ধু সেতু-ভূঞাপুর সড়কে চলাচল করায় যানজট লেগে থাকে। এতে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বালু ও ধুলায় গাছপালা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়রা ঠান্ডাজনিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বালুবাহী ট্রাক চলাচল করায় সড়ক, মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নম্বরবিহীন হাইড্রোলিক ট্রাকের চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোয় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এদিকে অবৈধ এসব বালুর ঘাট দখলে নিতে প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিরা সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। গেল ২০১২ সালের বালুর ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে উপজেলার পুনর্বাসন এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও তার শ্যালক শাকিল আহমেদ টিক্কা নিহত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বালুর ঘাট এলাকা থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বালু ঘাটকে কেন্দ্র করে এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও মাদকের বিস্তার ঘটেছে। গত বুধবার শুকিয়ে যমুনা নদীর পাড় জেগে উঠা চর বিক্রি নিয়ে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকায় বর্তমান নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বহিস্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের উপস্থিতিতে চলা সংঘর্ষে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে চার রাউন্ড গুলি করা হয়। সংঘর্ষে সাতজন পুলিশসহ উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার ওসি আব্দুল ওহাব বলেন, সংঘর্ষের সময় গুলি করার কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটা তদন্ত হচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে উভয়পক্ষের অজ্ঞাত ৭/৮ হাজার লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। সংঘর্ষের সময়ের ভিডিও দেখে আসামি শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান বলেন, উপজেলায় পাঁচটি বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে কোনো বালুর ঘাট ইজারা দেয়া হয়নি। এছাড়া বালু ব্যবসায়ীরা মহামান্য হাইকোর্টে রিট করায় বালুর ঘাট থেকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদি অবৈধ কিছু থাকে তাহলে প্রশাসন থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া গত বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনা কী নিয়ে ঘটেছে, সেটার তদন্ত করা হচ্ছে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





