বাড়িতেই চলছে স্বাস্থ্য সেবা

লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

শ্রীপুরে তিন কমিউনিটি ক্লিনিক পরিত্যক্ত

বাড়িতেই চলছে স্বাস্থ্য সেবা

  • শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ এপ্রিল, ২০১৯

দশ বছর যেতে না যেতেই স্বাস্থ্য সেবায় ব্যবহারের ভবন ভেঙে পড়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্টির জন্য হাতের কাছে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার এক মহৎ উদ্যোগ গ্রহন করেন সরকার । তবে সে সেবা ব্যহত হচ্ছে ভবন ভেঙে পড়ায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সস্তা নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে  ভবন নির্মাণের কারণেই ভবনের এমন রুগ্ন, বেহাল দশা। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক। এতে করে সেই ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে অন্যের বাড়ি বা পরিত্যক্ত কোনো বসত ঘরেই। এতে মানুষ ক্লিনিকে সেবা নিতে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।  গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিকের এ বেহাল চিত্র পাওয়া গেছে।

শ্রীপুরের পৌর শহরের ৩ নং ওর্য়াডের লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিক, রাজাবাড়ি ইউনিয়নের কাফিলাতলী কমিউনিটি ক্লিনিক এবং গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সেবাগ্রহনকারীরা জানান, লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকটি প্রায় সাত আট বছর ধরেই ব্যবহার অনুপযোগী ছিল। দেড় দুই বছর আগে ভবনটি ভেঙেই পড়েছে। পরে ক্লিনিকের যাবতীয় আসবাবপত্র পাশ্ববর্তী একটি জীর্ণ মাটির ঘরে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুই বছরের বেশি সময় ধরেই জীর্ণ মাটির ঘরেই চলছে স্বাস্থ্য কার্যক্রম। সে মাটির ঘরটি কবরস্থানের পাশে হওয়ায় দুপুরের পর সেখানে কোনো মানুষের চলাচল থাকে না। তাই সেখানকার স্বাস্থ কর্মীরা ভয় নিয়েই চালান তাদের সেবা কার্যক্রম। এ দিকে কাফিলাতলী কমিউনিটি ক্লিনিকটির ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরে সেটি স্তানান্তর করে একটি মনিহারি দোকানে চালু করা হয়। সেখানেই কয়েক বছর যেনতেন স্বাস্থ্য সেবা চলে। বছরখানেক আগে ওই ক্লিনিকটি পাশের একটি টিনের তৈরি জরাজীর্ণ ভবনে স্থানান্তর করা হয়।  লতিফপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ভবনটি ভেঙে গেছে বেশ অনেক দিন হলো। এখন ভবনের ভেতর ঘাস জন্মেছে। ভবনের চারপাশে এখন বনজঙ্গলে ভরে গেছে। এখন জমিদাতার এক আতœীয়ের বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়েছে ক্লিনিকের কার্যক্রম।  এখন সেখানেই যেনতেন স্বাস্থ্য সেবা চালানো হচ্ছে।

 

গোসিংগা ইউনিয়নের ৬ নং ওর্য়াড সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পদাধিকার বলে এ ক্লিনিকটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমি। এ ওর্য়াডের সদস্য নির্বাচিত হলেই এ পদ মিলে। তবে বিভিন্ন অপূর্ণতা থাকায় আমি এ দায়িত্ব নিতে চাইনি। পরে চেয়ারম্যান মহোদয়ের বিশেষ অনুরোধে দায়িত্ব নিয়েছি।  জমিদাতার এক আত্মীয় বিদেশ থাকায় তার বাড়িটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো রকমেই চলছে স্বাস্থ্য সেবা। এ বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন মিটিংয়ে কথা বলেছি। সবাই আশস্ত করেছে শিগগিরই ভবন নির্মানের ব্যবস্থা করা হবে।

গ্রামবাসীরা জানান,  কাফিলাতলী কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ভবনের দুই পাশের পিলার ও দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল। ২০০১সালে প্রতিষ্ঠিত ভবনটিতে ২০১৩ সালে ফাটল দেখা যায়। দেখতে নতুন মনে হলেও ভবনটির চারপাশে বন্য গাছ-গাছালী ও লতাপাতায় ভরে গেছে। পরে ২০১৪ সালে মূল ভবন থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পাশ্ববর্তী মোফাজ্জরের মনিহারির দোকানে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পাশের মনির হোসেনের বাড়ির একটি টিনের ঘরে কমিউনিটি ক্লিনিকটি স্থানান্তর করা হয়েছে।

পৌরসভার ৩ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর আবদুস সাহিদ সরকার জানান, লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকটির মূল ভবন পিলার, দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির আশবাবপত্রসহ ক্লিনিকটি পাশের একটি মাটির জরাজীর্ণ ঘরে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাটির ঘরটির অবস্থাও খুব নাজুক। চার পাশে টিনের চালগুলোর কোন কোন অংশ পুরোনো হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ছে প্রায়। সেবা নিতে আসা লোকজন মাটির ঘরের বাইরে রোদে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য সেবা নেন।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মইনুল হক খান বলেন, ভবন না থাকায় গ্রামের রোগিদের কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে ভবন তৈরি করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্ধও হয়ে গেছে বলে জেনেছি। ভবনগুলো তৈরি হয়ে গেলে প্রান্তিক মানুষ আরও বেশি স্বাস্থ্য সেবা পাবে এ সব কমিউনিটি ক্লিনিকে। আশা করছি আগামী দুবছরের মধ্যেই সকল সমস্যা মিটে যাবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads