করোনা মহামারির কারণে গত বছর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ান্দ ইউনিয়নের খারকোট গ্রামের মোতালেব সরকারের ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন (৩৬)। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আর সৌদি আরব যেতে পারেন নি।
এরপর তিনি ভাবতে থাকেন দেশে কিছু একটা করার। সীমান্তর্তী গ্রামে তার বাড়ী হওয়ায় এ সুবিধাটা কাজে লাগানোর চিন্ত করেন। সীমান্তের ওপার থেকে কমদামে গাঁজা কিনে এনে ঢাকা বা বাইরের পার্টির কাছে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভে বিক্রি করে দ্রুত অনেক টাকা-পয়সা কামানোর লক্ষ্য নিয়ে তারই বাল্যবন্ধু স্থানীয় আরেক মাদক কারবারীর পরামর্শে সে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
কথায় আছে সাত দিন যদি চোরের হয় একদিন গৃহস্থ্যের হবেই। ঠিক সেভাবেই সাহাবুদ্দিনের সাতদিনও ফুরোয়। গৃহস্থ্যের দিন চলে আসে। শেষ পযর্ন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। গত ৬ মার্চ রাতে পুলিশের এক অভিযানে ১০ কেজি গাজাসহ তাকে আটক করা হয়। এসময় তার সহযোগী জালাল ভূইয়া (৩৫)কেও আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে আটক দুজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসারের অভাব ঘুচাতে ২০০৮ সালে তিনি সৌদী আরবে যান। প্রবাস জীবন কালে মাঝে মধ্যে ছুটি নিয়ে দেশে আসতেন। ধীরে ধীরে পরিবারের অভাব দুর হওয়ায় আর্থিক সচ্চলতাও ফিরে আসে তার সংসারে। ২০১৬ সালে বিয়ে করে যৌথ পরিবার থেকে আলাদা হয়ে পৃথক সংসারজীবন শুরু করেন। ২০১৭ সালে তাদের বাবা-মায়ের কোলজুড়ে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান জন্ম হয়। গতবছর করোনা পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশে ফিরে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আর সৌদি আরব যাওয়া হয়নি তার। এরপর বন্ধুর শলাপরামর্শে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি শাহবুদ্দিনের। পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তিনি।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এসআই এরশাদ মিয়া ও এএসআই আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে খারকোট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ১০ কেজি গাঁজা নিয়ে যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়। এ সময় অটোরিকশা চালক মোগড়া উত্তরপাড়ার আলতাফ ভূঁইয়ার ছেলে জালাল ভূঁইয়াকেও আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহবুদ্দিন মাদক ব্যবসায়ি হয়ে উঠার গল্প তুলে ধরেন। আটক হওয়ার পর সে এখন অনুতপ্ত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়।





