জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছর পর বিদ্যালয় খোলার পর ও জলাবদ্ধতায় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে তারা যেতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামের আশপাশের পানি বিদ্যালয়ের মাঠে এসে পড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। সেইসাথে মাঠে জমে থাকা পানির কারণে শিক্ষার্থীরা শরীরচর্চা ও জাতীয় সংগীত গাইতে পারছে না এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
স্থানীয়রা জানায় বিদ্যালয় সংলগ্ননে চারদিকে বাড়িঘর উচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি সরসরি বিদ্যালয় মাঠে এসে পড়ে এ অবস্থা তৈরী হয়েছে। জলবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকার পর খোলা সত্বেও কমছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ পরিস্থিতিতে দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যালয় মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনের জোর দাবি জানান শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বারান্দার সামনের দক্ষিণ অংশে অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। পানিতে রয়েছে ময়লা আবর্জনা ও। টানা বৃষ্টি হলে তলিয়ে যায় পুরোমাঠ । সামান্য বৃষ্টি হলে বিদ্যালয় মাঠে যেন পানি থৈ থৈ করে। মাঠটির বেশির ভাগ অংশই আগাছায় আর জলমগ্নে পরিণত হয়েছে। বিশাল মাঠে খন্ড খন্ড জায়গায় রয়েছে পানি সেইসাথে আছে স্যাতস্যাতে অবস্থা ও। স্থানীয়রা জানায়, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তব ভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অবশ্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় খোলা হলে আমাদের কোন আনন্দ নেই। বৃষ্টি হলে মাঠজুড়ে পানি লেগে থাকে। চারিদিকে পানি থাকায় খেলাধুলা করতে না পাড়ায় তাদের খুবই খারাপ লাগে বলে জানায়।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. তানিম আলম বলেন, বর্ষা মৌসুমে বেশী ভাগ সময় বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে থাকে। ফলে সহপাঠিদের সাথে খেলতে না পারায় আমাদের মন খারাপ হয়। বৃষ্টি হলে অনেক সময় পানি সরতে অনেক সময় লাগে। তাছাড়া পুরো মাঠ যেন স্যাতস্যাত হয়ে থাকে। আমরা খেলতে গিয়ে যাতে পড়ে না যায়, তাই স্যারেরা খেলতে নিষেধ করেছেন।
বিউটি আক্তার বলেন, মাঠে পানি থাকার কারণে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে মাঠের মধ্য দিয়ে একটি ছোট আকারের রাস্তা করা হয়েছে। বর্তমানে এটা দিয়েই তারা চলাচল করছে বলে জানায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিমা আক্তার ও মিলি আক্তার জানায়, সামান্য বৃষ্টি হলে আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকে। তখন বিদ্যালয়ে আসতে ভয় করে। মো. লিয়াকত হোসেন জানায়, স্কুল মাঠে পানি জমে থাকার কারণে আসা যাওয়া করতে ভয় হয়।
অভিভাবক মো. আব্দুল হাকিম বলেন, চারদিকে বাড়িঘর উচু করায় ফলে বৃষ্টির পানি মাঠে জমে থাকে। পয়:নিস্কাশনের ব্যবস্থা না করলে বড় ধরণের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অনিকা মজিদ জেসমিন বলেন, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলে মাঠে পানি জমে থাকে। তখন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের খুবই কষ্ট করতে হয়। বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকের একটি অংশে গর্ত থাকায় সেখানে পানি সব সময় থাকে। তাই বিদ্যালয় খোলা থাকলে সব সময় দুশ্চিন্তা কাজ করে।
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য বলেন, মো. মোস্তফা ভূইয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যে পানি সরাতে নিজ উদ্যোগে বড় পাইপ দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে মাটি দিয়ে একটি রাস্তা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাই বলেন, বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয় সংলগ্ন আশপাশের বাড়িঘর উচু করে তৈরী করায় বৃষ্টি হলে ওইসব জায়গার পানি মাঠে চলে এসে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে মাঠের মধ্য দিয়ে পায়ে চলাচলের জন্য একটি রাস্তা করা হয়েছে । ওই রাস্তা দিয়ে কষ্ট করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছেন।
তিনি আরও বলেন বৃষ্টির পানি জমে থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা ও করতে পারছে না বলে জানায়। জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।
মোগড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা দূর করতে আমার চেষ্টার কোন ঘাটতি নেই। ইতিপূর্বে কয়েকবার এই জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় ও পরিচালনা কমিটি লোকজন একাজটি করতে না পারায় এ সমস্যাটি এখনো আছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরজাহান বেগম বলেন উমেদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ার কারণে বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদ ও ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। আশা করি দ্রুততার সময়ে মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।





