করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত একবছরের বেশিরভাগ সময় সাধারণ ছুটি ও চলাচলে সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বীমাখাতে কর্মরত কয়েক লাখ মাঠ পর্যায়ের বীমা এজেন্ট। এসব কর্মীদের নির্দিষ্ট বেতনভাতা না থাকায় চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছেন তারা।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বীমাকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বীমা কোম্পানির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। তারা বলেছে, নতুন পলিসি খোলা এবং নবায়ণ ফি থেকে প্রাপ্ত কমিশন দিয়ে বীমা এজেন্টদের সংসার চলে। করোনার এই সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা করার প্রবণতা নেই বললেই চলে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এসব এজেন্টরা। বিআইএ সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বাংলাদেশও একটা কঠিন সময় পার করছে। বীমাখাত এই সমস্যার বাইরে নয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে প্রণোদনা দিচ্ছেন। বীমাখাতের এজেন্টদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি করছি। এরই মধ্যে বিষয়টি আইডিআরএ চেয়ারম্যান এবং অর্থমন্ত্রীর নজরেও এনেছি। কিন্তু আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শেখ কবির বলেন, বীমা এজেন্টদের বাঁচিয়ে রাখা না গেলে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। এজেন্টদের বেতনভাতা নেই। তারা বীমা করার মাধ্যমে কমিশন পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি তারা কোম্পানির ব্যবসাও টিকিয়ে রেখেছেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সাধারণ ছুটি ও চলাচলে সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় এজেন্টরা বেকার হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় ওইসব এজেন্টদের টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দ্রুত প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, বীমাখাতে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছি। আইডিআরএ থেকে বিআইএর প্রস্তাবনাটি অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মোরতুজা আলী বলেন, বীমাখাতের প্রধান বিক্রয় শক্তি বীমাকর্মী। তাদের সংগৃহীত প্রিমিয়াম দিয়েই কোম্পানিগুলোর গ্রোথ হয়। বর্তমানে করোনার কারণে নানা বিধিনিষেধ থাকায় বীমাকর্মীরা ব্যবসা করতে না পারায় কোনো কমিশন পাচ্ছেন না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বীমাকর্মীদের সুরক্ষায় প্রণোদনা বিশেষ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার ২ শতাংশ সুদে বীমা কোম্পানিগুলোকে ঋণ দিতে পারে। ঋণের অর্থ থেকে কোম্পানিগুলো তাদের এজেন্টদের সুরক্ষা দিতে পারে। আবার কোনো কোনো কোম্পানি ইচ্ছা করলে তাদের ভালো এজেন্টদের জন্য কিছু টাকা অগ্রিম দিতে পারে। পরে ব্যবসা হলে কমিশন থেকে কেটে রাখবে।
জেনিথ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসএম নূরুজ্জামান বলেন, লাখের অধিক বীমা এজেন্ট রয়েছেন। বীমা ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত কমিশনে তাদের সংসার চলে। এই দুঃসময়ে বীমা এজেন্টদের প্রণোদনা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বিকল্প হিসাবে সরকারের কাছে থাকা বীমা কোম্পানিগুলোর ক্যাপিটালের টাকা থেকে ১/২ শতাংশ সুদে বীমা কোম্পানিকে ঋণ দেওয়া যেতে পারে, যেন সেই টাকা কোম্পানিগুলো তার এজেন্টদের অগ্রিম কমিশন বাবদ দিতে পারে। আনিসুর রহমান নামে এক বীমাকর্মী বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
দেশে সরকারি-বেসরকারি ৮১টি জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা কোম্পানি রয়েছে। এসব বীমা কোম্পানিতে মাঠপর্যায়ে কয়েক লাখ নারী-পুরুষ কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করছেন।





