শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে কোনো শিক্ষার্থী সামাজিক কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় বহন করতে পারবে না বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুয়েট প্রশাসন প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডক্টর এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে বুয়েটে সকল রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং শিক্ষার্থীরা কোনো অনুমোদিত ক্লাব, সোসাইটি ব্যতীত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বা অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হতে বা এর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই এ আদেশ মেনে চলতে হবে। কেউ অমান্য করলে অধ্যাদেশে বর্ণিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে একইভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার না করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আবরার ফাহাদের মৃত্যুর পর ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধসহ ১০ দফা দাবির আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীরা। অচলাবস্থার মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষাপটে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করল বুয়েট প্রশাসন।
সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ জন শিক্ষার্থীকে আজীবন বা স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় ৬ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে৷ আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েটের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন এই সিদ্ধান্ত নেয়।





