এ বছর ১৭২ মণ মাল্টা এবং দার্জিলিংয়ের কমলা বিক্রি করে আব্দুল করিম খরচা বাদ দিয়েও নগদ পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি টাকা। এর বাইরে মাল্টা এবং দার্জিলিংয়ের কমলা লেবুর চারা বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার। আব্দুল করিমের স্বপ্ন এখন আকাশ চুম্বী। তাই সে নতুন করে এ বছর আরো ১৫ বিঘা জমিতে মাল্টা এবং কমলা চাষ করেছেন। আব্দুল করিম মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নী গ্রামের মৃত. আকাম গাজীর ছেলে। পেশার কারণে এখন তার নামের বদল ঘটেছে। এখন জনগণের কাছে এখন মাল্টা করিম নামেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন।
এক সময় শিক্ষিত আব্দুল করিমকে সাংবাদিক ও নাট্যকার করিম হিসেবে চিনতো। দীর্ঘদিন বেকারত্বের পর তাই সে মঞ্চ নাটক এবং সাংবাদিকতা ছেড়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। যে কারণে এখন তাকে মাল্টা করিম হিসেবে সহজেই চেনেন স্থানীয়রা। বেকারত্ব ঘুচাতে ২০০৮ সালে বাড়িতে মুরগি পালন করতে খামার গড়ে তোলেন। বার্ডফ্লু রোগে তার সে স্বপ্ন সবই ম্লান হয়ে যায়।
মাল্টা চাষী আব্দুল করিম জানান, ২০০৮ সালে বার্ডফ্লুতে তার ১ মাসে ক্ষতি হয় ৬ লক্ষাধিক টাকা। এরপর হতাশার জীবন নিয়ে সময় কাটছিল তার। এক পর্যায় কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায়ের অনুপ্রেরণায় মাল্টা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। সাড়ে ৫ বছর আগে আব্দুল করিম খুলনার কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ১২৫ পিস মাল্টা এবং ২৫ পিচ দার্জিলিংয়ের কমলা লেবু চারা এনে চাষ শুরু করেন। আর এ থেকেই আব্দুল করিম এখন এলাকার বেকার যুবকদের অনুকরণীয় হয়ে দাড়িয়েছেন।
সাড়ে ৫ বছর কমলা চাষের শুরু থেকে করিম এখন অর্ধকোটি টাকার সম্বল করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই এ বছর আরো ১৫ বিঘা জমিতে নতুন করে মাল্টা এবং কমলা চাষ করেছেন। আব্দুল করিমের সাথে এ প্রতিনিধির কথা হলে কৌতুহলী ভাবে যাওয়া হয় আব্দুল করিমের মাল্টা বাগান দেখতে। বাগানে প্রবেশ করতেই গাছে গাছে ফল দেখে যেন থমকে যাওয়ার অবস্থা। বাগানে বসেই আব্দুল করিম আগেই তার অতীত জীবেনর গল্পকথা শুরু করেন। তিনি বলেন, এখন আর আমাকে কেউ সাংবাদিক করিম বলে না। কেউ দাওয়াত দেয়না মঞ্চে নাটক করতে। রাত-দিন এ বাগানে পড়েই গাছের সাথে সময় যায়। দিন যায় দিন আসে বাগানেই কাটাতে হয় এ অবস্থায়। অতীতের বন্ধুরাও ভুলতে বসেছে আমাকে।
তবে এখন অনেকের মতো সাংবাদিকরাও আসছেন আমার এ বাগানে। যশোরসহ খুলনা থেকেও মাঝে মধ্যে আসছেন সাংবাদিক ভাইয়েরা। তবে তাদেরকে আর জানাতে চাইনে আমার অতীত পরিচয়। আমি এখন সবার কাছে মাল্টা করিম নামেই পরিচিত হয়েছি। তবে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করে চাকুরীর জন্য সময় ব্যয় না করে।
এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুর করিম জানান, আমার মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চালের বহু শিক্ষিত যুবক এখন আমার অনুসরণ করছেন। রীতিমতো চারা নিচ্ছেন, আমার তৈরি কম্পোজসার নিচ্ছেন। অনেকেই আমার মত স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। গত বছর বাদসাদ দিয়ে ফল বিক্রিতে লাখ চারেক টাকা ঘরে আসে। এরপর চারা বিক্রিসহ অন্যান্য ভাবে যা রোজগার হয়েছে তা দিয়েই এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে চাষ করতে পেরেছি। তবে আমার এ মাল্টা চাষের অনুপ্রেরণা, উৎসাহ দেওয়ার ব্যক্তি কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় দাদার জন্য কিছুই করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার জানান, আব্দুল করিম এখনতো অনেকের পথ প্রদর্শক। তবে মাঝে মধ্যে কিছু কিছু পরামর্শ নিয়ে থাকেন।





