জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে হলো পরিবহন ধর্মঘট। তারপর নতুন ভাড়া নির্ধারণ করল সরকার পরিবহন মালিক ও নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। এরপর শুরু হলো যাত্রীদের ওপর ‘ভাড়া নির্যাতন’। তাতে অনেকেরই মাসিক আয়ের অর্ধেকই চলে যায় পরিবহন ভাড়া বাবদ।
সরকার নতুন সাতক্ষীরা থেকে খুলনা বাস ভাড়া ছিল ৮০ টাকা। এখন নিচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। সরকার নির্ধারিত নতুন ভাড়ায় ১০৭ টাকা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে নিচ্ছে ১৩০ টাকা। প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বাসের কন্ডাক্টররা তাদের ইচ্ছামতো ভাড়া নিয়েই যাচ্ছেন। আর অসহায়ের মতো যাত্রীদের পকেট কাটা যাচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেন সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় নিয়মিত আসা যাওয়া করা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা জুবায়ের মোস্তাফিজ।
ভাড়া বাড়াতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা করে তিনি বলেন, বেতনের অর্ধেকই চলে যাচ্ছে বাসভাড়ায়। আসতে ১৩০ টাকা যেতে ১৩০ টাকা মোট ২৬০ টাকা প্রতিদিন বাস ভাড়াতে শেষ। বাসায় পৌঁছাতে অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া মিলে ৩০০ টাকা প্রতিদিনই লাগছে।
আরেক যাত্রী বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা এনামুল কবীর বলেন, ‘খুলনা থেকে পিরোজপুরের দূরত্ব ৬২ কিলোমিটার। সরকারের নির্ধারিত হিসাবে ভাড়া হয় ১.৮–৬২=১১১.৬ টাকা। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে ১৩০ টাকা। আমাদের সঙ্গে জুলুম করা হচ্ছে কিন্তু দেখার কেউ নেই। ভুক্তভোগী একাধিক যাত্রীরা বলেন, আয় বাড়েনি, কিন্তু ভাড়া বেড়েছে, অন্যান্য খরচ বেড়েছে। এতে আমাদের ওপর একটি বিশাল চাপ তৈরি করেছে। মাঝেমধ্যে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বাগ্যুদ্ধ হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।’
জ্বালানি তেল ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর পরিবহন ধর্মঘটের মুখে বাস ও লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণার পর সোমবার থেকেই নতুন ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত এ নতুন ভাড়াকে কেন্দ্র করে পরিবহনকর্মীদের সঙ্গে বািবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন যাত্রীরা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) খুলনা বিভাগের উপপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম মিজানুর রশীদ বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১ টাকা ৮০ পয়সা কিলোমিটার হিসেবে মালিক সমিতির কাছে ভাড়ার চার্ট দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি নিলে সেটা অন্যায় হবে। যারা বেশি ভাড়া নিচ্ছে তাদের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে, যাতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।





