মোস্তাফিজুর রহমান আগের ম্যাচের মতো গতকাল একই রকমের মিতব্যয়ী ছিলেন। বরং তৃতীয় ম্যাচে কোনো উইকেট না পেলেও আজ দুটি উইকেট দখল করেন তিনি। তার বোলিং ফিগার ছিল ‘৪-১-৯-২’। কিন্তু তার সতীর্থদের ব্যাটিংই কাল হয়ে দাঁড়ায়। টাইগার বাহিনীর বাজে ব্যাটিংয়ের সুযোগে টানা তিন হারের পর জয়ের মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া। গতকাল সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে তারা ৩ উইকেটে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলকে পরাজিত করে। বাংলাদেশের ৯ উইকেটে মাত্র ১০৪ রানের জবাবে সফরকারীরা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১৯ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৫ রান করে। ম্যাচে হারলেও সিরিজে বাংলাদেশ ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
১০৫ রানের ছোট্ট টার্গেটে ব্যাটিং শুরু করে অজিরা। শুরু থেকেই হাল না ছাড়ার মানসিকতায় খেলেছেন টাইগার বোলাররা। সেই চেষ্টায় প্রথম ওভারেই দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। অজি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে ফেরান মাহেদি হাসান। কিন্তু উইকেটে এসেই ভয়ংকর চেহারায় হাজির হন ড্যান ক্রিশ্চিয়ান। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সাকিবকে রীতিমতো লজ্জায় ডুবিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। এক ওভারেই হাঁকিয়েছেন ৫ ছক্কা। ওভারের প্রথম তিন বলে টানা তিন ছক্কা হাঁকান ক্রিশ্চিয়ান। পরের বলটি ছক্কা হাঁকানোর মতো জোরে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিস করেন তিনি। কিন্তু তার পরের দুই বলে আবারো টানা দুই ছক্কা হাঁকান তিনি।
পরের ওভারেই ম্যাকডরমটকে (১২ বলে ৫) এলবিডব্লিউ করেন নাসুম আহমেদ। তার পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান ভয়ংকর ক্রিশ্চিয়ানকে (১৫ বলে ৩৯) ফেরান শামীম পাটোয়ারীর ক্যাচ বানিয়ে। পঞ্চাশের আগেই ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
অষ্টম ওভারে ময়েচেস হেনড্রিকস রানআউটের কবলে পড়লে দুর্ভাগ্য শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার। সাকিবের বলে সোজা শট খেলেছিলেন মিচেল মার্শ। ননস্ট্রাইকে এন্ডে বোলারের হাতে লেগে ভেঙে যায় স্ট্যাম্প। হেনড্রিকস (৪) ফেরেন দুর্ভাগ্যজনক আউটে।
এরপর দ্রুতই অ্যালেক্স কারে আর মার্শকে আউট করে ম্যাচে ফেরে টাইগাররা। দশম ওভারে কারেকে (১) এলবিডব্লিউ করেন মোস্তাফিজ। পরের ওভারে মাহেদি দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মার্শকে (১১)। ৬৫ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেট তুলে নেয় টাইগাররা।
কিন্তু সপ্তম জুটিতে অ্যাগার ও টার্নার বেশ আস্থার সঙ্গে খেলতে থাকেন। দলীয় ৯৯ রানের মাথায় শরিফুলের বলে অ্যাগার শামীমের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। অ্যাগার ২৭ বলে ২৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত টাই ৪ এবং টার্নার ৯ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের মোস্তাফিজের ২টি উইকেট ছাড়াও মাহেদি ১৭ রানে ২টি উইকেট পান। আর নাসুম ও শরিফুল ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ায় এ ম্যাচে বাংলাদেশ দলের সামনে সুযোগ ছিল স্কোয়াডের বাকি ক্রিকেটারদের পরীক্ষা করার। তবে সে পথে হাঁটেনি টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। আগের ম্যাচের একাদশ নিয়েই মাঠে নামে স্বাগতিক শিবির। সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও সুবিধা করতে পারেনি ওপেনিং জুটি।
সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে ব্যর্থ হলেও সৌম্য সরকার আর নাঈম শেখের উপরেই আস্থা রাখে বাংলাদেশ। আগের তিন ম্যাচে ২, ০, ২ রান করে আউট হলেও চতুর্থ ম্যাচে আবার সুযোগ পান সৌম্য। এ ম্যাচেও ব্যর্থ তিনি। ফেরেন ১০ বলে ৮ রান করে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে অজি পেসার জশ হ্যাজেলউডকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বৃত্তের মধ্যে অ্যালেক্স কেরির হাতে ধরা পড়ে সাজঘরের পথ ধরেন সৌম্য।
সাকিব আল হাসান ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রাণ। উইকেটে থিতু হয়েছে, খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসতে পারেননি। হ্যাজলউডের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ১৫ রান করে। ২৬ বল খেলে মাত্র ১টি চার মারেন সাকিব। অস্ট্রেলিয়া একাদশে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন মিশেল সোয়াপসন। ইনিংসের ১১তম ওভারে জোড়া আঘাতে ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর নুরুল হাসান সোহানকে। দুজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
ততক্ষণে অবশ্য উইকেটের হালচাল বেশ ভালোভাবেই বুঝে ফেলেছেন ওপেনার নাঈম শেখ। তবে মন্থর ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রাখতে পারেননি তিনিও। সোয়াপসনের তৃতীয় শিকার হয়ে ফেরেন ৩৬ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে। আশা জাগিয়েছিলেন আফিফ হোসেন, তবে তাকে বড় ইনিংস খেলতে দেননি অ্যাগার। আফিফ আউট হন ১৭ বলে ২১ রান করে।
আফিফ যখন আউট হন, তখন ১৬ ওভারে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৭৮ রান। জিম্বাবুয়ে সিরিজে অভিষেক হওয়া শামীম পাটোয়ারী যেভাবে আলোচনায় আসেন মাত্র ২ ইনিংস দিয়ে, তার মান ধরে রাখতে পারছেন না তিনি। আগের ৩ ম্যাচে ২ বার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ তিনি। এ ম্যাচেও হাঁটেন একই পথে। ৬ বল খেলে ৩ রান করে আউট হন শামীম।
পরে শেখ মেহেদী হাসানের ১৬ বলে ২৩ রানের কল্যাণে দলীয় সংগ্রহ কোনোরকম ১০০ রানের সংগ্রহ পার করে বাংলাদেশ।
এরপর আগামী সোমবার বাংলাদেশ ও সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজের শেষ ম্যাচটি একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।





