জাতীয়

১৬ কোটির জন্য কাজ করছেন মাত্র ১০৮ জন

ব্যাহত হচ্ছে ভোক্তা অধিকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ নভেম্বর, ২০২১

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যাত্রা শুরু করে ২০০৯ সালে। কিন্তু জনবল সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে সংস্থাটি এখনো পরিপূর্ণ রূপ পায়নি। অর্জন করতে পারেনি আইন বাস্তবায়নের সক্ষমতা। ১৬ কোটির অধিক ভোক্তার অধিকার নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে মাত্র ১০৮ জন। এ কারণে, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৩০৫ জন জনবল নিয়োগের আবেদন করা হলেও জনপ্রশাসন প্রাথমিকভাবে ২০৬ জনবল অনুমোদন করেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য বলে মনে করছেন সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিরা।

এদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ক্ষমতাবলে ভোক্তা অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করছে সংস্থাটি। তবে আইন প্রয়োগের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা না থাকায় সাধারণ মানুষ এই সংস্থা ও আইনের সুফল সেভাবে পাচ্ছে না। জানা গেছে, দেশের ১৬ কোটির অধিক সংখ্যক ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠানটির জনবল রয়েছে মাত্র ২০৮ জন। রাজধানীর অন্তত ২ কোটি ভোক্তার স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র ৫ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে মহাপরিচালক একজন, পরিচালক একজন ও উপপরিচালক তিনজন। বর্তমানে পরিচালকের দুটি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে একটি পদ। এছাড়া চারজন উপপরিচালকের পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন তিনজন। শূন্য রয়েছে একটি পদ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জনবলের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া আছে। বাজেট পাওয়া সাপেক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জনবল অনুমোদন করছে। তিনি আরো জানান, নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্য দিয়েই সাধারণ ভোক্তার অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছি। অধিদপ্তরে দাখিল হওয়া অভিযোগগুলো সীমিত জনবল দিয়েই সাধ্যমতো এগুলো নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলে জানান বাবলু কুমার সাহা।

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৭৬ (১) অনুযায়ী, ‘যে কোনো ব্যক্তি, যিনি, সাধারণভাবে একজন ভোক্তা বা ভোক্তা হইতে পারেন, এই অধ্যাদেশের অধীন ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কার্য সম্পর্কে মহাপরিচালক বা এতদুদ্দেশ্যে মহাপরিচালকের নিকট ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিয়া লিখিত অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন।’

কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা তদারকি করে ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অমীমাংসিত রয়ে যাচ্ছে শত শত অভিযোগ। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা তদারকি করে ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, দেশে অধিকাংশ পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ভেজাল ও প্রতারণার মহোৎসব চলছে। বস্তুত বাজারে মাছ-মাংস, দুধ-ডিম ও ফলমূল থেকে শুরু করে প্রায় সব পণ্যের পাশাপাশি সেবা খাতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ভেজালের মিশ্রণসহ নানা প্রক্রিয়ায় প্রতারণা করা হচ্ছে। অসাধু ব্যক্তিরা অধিক মুনাফার লোভে মত্ত হয়ে একদিকে চাল, মাছ, সবজি, মসলা, দুধ, দই, মিষ্টি, বেকারি পণ্যসহ নকল ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করছে; অন্যদিকে বিভিন্ন সেবা প্রদানে অবাধে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। পাশাপাশি পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা করছে।

জনবল সংকট প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছি। নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সমস্যা থাকবে না। পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা নিরসন হবে।

সূত্র জানিয়েছে, যে কোনো ভোক্তা তার অধিকার নিশ্চিত করতে, বা পণ্য কিনে ঠকলে প্রতিকার চেয়ে অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারবেন।

অভিযোগ দায়ের করা যাবে সংস্থার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের  মহাপরিচালক বরাবর। এছাড়াও জাতীয় অধিদপ্তরের ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্রগুলোতেও ফ্যাক্স, ই-মেইল, ওয়েবসাইট, ইত্যাদি ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়েও অভিযোগ দাখিল করা যাবে। অভিযোগের সঙ্গে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের রশিদ অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে। অভিযোগকারীকে তার পূর্ণাঙ্গ নাম, পিতা ও মাতার নাম, ঠিকানা, ফোন, ফ্যাক্স ও ই-মেইল নম্বর (যদি থাকে) এবং পেশা উল্লেখ করতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads