নারীর বয়স আর পুরুষের বেতন-জানতে চাইতে নেই। এদেশের প্রচলিত রীতি। কিন্তু শোবিজ তারকাদের ক্ষেত্রে এ কথা মানা হয় না। শোবিজ তারকাদের হাঁড়ির-নাড়ির খবর জানতে চান ভক্তরা। সে কারণেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করা হয় তাদের বয়স। যেমনটা হচ্ছে জয়া আহসানের বেলায়।
জয়া আহসানের বয়স এক জটিল ধাঁধার মতো। শরীরে-সৌন্দর্যে এখনো টিনএজারদের ঈর্ষার কারণ তিনি। তার চেয়ে অনেক জুনিয়র শিল্পীরা তাকে ঈর্ষা করেন। প্রকাশ্যেই করেন। সেই ঈর্ষান্বিতরাই বেফাঁসে বলে ফেলেছিলেন জয়া পঞ্চাশোর্ধ।
এর আগে জয়া এই ‘বেফাঁস মন্তব্যের’ দীর্ঘ প্রতিবাদ করেছিলেন। নাতিদীর্ঘ এক বক্তব্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, সবার উদ্দেশে বলতে চাই, বয়স নয়, একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজে। ৪৬ কিংবা ৫৬ কিংবা তার চেয়েও বেশি বয়স হলেই অভিনেত্রীরা কাজের অযোগ্য কিংবা তারুণ্যদীপ্ত চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন না-এমন ধারণা বিশ্বের কোনো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিই পোষণ করে না। তাই ব্যক্তি জয়া আহসানের যে বয়স, তা নিয়ে আমি এতটুকু বিচলিত নই।
তবে ভুল তথ্য প্রচার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সবার উদ্দেশে অনুরোধ করছি। বিশেষ করে আমার কাজ যারা পছন্দ করেন, দায়িত্বশীল যেসব সাংবাদিক আমাকে নিয়ে দুই কলম লেখার মতো যোগ্য মনে করেন, তারা ভবিষ্যতে বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে দেখবেন বলেই আশা করছি। প্রকৃত সত্য হলো, ৪৬ বছর আগে আমার বাবা-মার বিয়ে তো দূরের কথা, দেখাও হয়নি।
এত দিন বিষয়টি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছি। তবে ইদানীং বিষয়টি মাত্রাতিরিক্ত আকার ধারণ করায় পরিবার ও কাছের বন্ধুদের অনুরোধে লিখতে বাধ্য হয়েছি। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, একজন শিল্পীর জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরবার আগে ন্যূনতম একবার তার সঙ্গে কথা বলা উচিত। কারণ শুধু বয়স ভুলের তথ্যই নয়, বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার আরো দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে (প্রকৃত তথ্য: আমরা দুই বোন ও এক ভাই)।
বলা হয়, আমার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় (প্রকৃত তথ্য গোপালগঞ্জ)। শুধু তাই নয়, আমার বাবার নামও লেখা হয় আলী আহসান সিডনী (প্রকৃত তথ্য অভিনেতা জিতু আহসানের বাবা প্রখ্যাত অভিনেতা সৈয়দ আলী আহসান সিডনী। আমার বাবা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এস মাসউদ)। রয়েছে আরো অনেক ভুল তথ্য। আশা করছি ভুল শুধরে ভবিষ্যতে আমরা প্রত্যেক শিল্পী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা করব। কারণ ভক্তরা যেমন তার পছন্দের শিল্পী সম্পর্কে ভুল তথ্য কিংবা ভুল ব্যাখ্যা পড়তে পছন্দ করেন না, শিল্পীরাও প্রতিনিয়ত ভুল তথ্য দিয়ে ভক্তদের বিভ্রান্ত করতে চান না।
জয়া তখনো সাহস করে নিজের বয়সটা বলেননি। এমনকি বয়স জানতে চাইলে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। এবার অবশ্য এড়াতে পারেননি ভারতীয় গণমাধ্যমকে। সেখানে নিজেকে ৩৭ বছর বয়সী বলে দাবি করেছেন।
জয়ার যে শারীরিক গঠন, তাতে নিজেকে ত্রিশের নিচে দাবি করলেও অগ্রহণযোগ্য মনে হতো না। কিন্তু তিনি তো ভিনগ্রহ থেকে হুট করে এই দেশে এসে পড়েননি। তাই তার বয়স নিয়ে নতুন বির্তক তৈরি হয়েছে। তার কাছের অনেকেই এই ৩৭ বছর নিয়ে হাসিঠাট্টা করছেন। তাদের দাবি, জয়া বয়সটাকে বেশি লুকিয়ে ফেলছেন। কমপক্ষে ১০ বছর তো লুকিয়েছেনই!
৩৭ বছরের জয়াকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা চলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও। বস্তুত জয়াকে ৩৭ বছরের নারী ভাবতে সবাই নারাজ। সেখানে অনেকেই ফোঁড়ন কাটছেন-জয়া নিজের বয়স নিয়ে আর কত বিভ্রান্তি তৈরি করবেন!





