সারা দেশ

ভালো নেই সাভারের গোলাপ চাষীরা

  • আশুলিয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি ও বিশ্ব ভালবাসা দিবসে ভাল বেচা বিক্রির স্বপ্ন দেখলেও, অজানা ভাইরাসে এবার গাছ নষ্ট হওয়ায়, পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে সাভারের ফুল চাষিদের। প্রতিবছরএ সময়টায় গোলাপ বাগানে তরুণ, তরুনীদের ভিড় লেগে থাকে, আর বেচা বিক্রিও হয় ভালো ।তবে এবার মাটিতে এসিডের পরিমান বেড়ে যাওয়ায় গোলাপের কলিতে পঁচন ধরে মরে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ফুল চাষিরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাভারে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষাবাদ করা হয়। এরমধ্যে ২৫০ হেক্টর জমিতে শ্যামপুর, মৈস্তাপাড়া, বাগ্নীবাড়ি, কালিয়াকৈর, সাদুল্লাপুর, আকরাইন, ভবানীপুর, রাজারবাগ, সারুলিয়া গ্রামসহ মোট ২০টি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে গোলাপের বাগান।

তবে অন্যান্য বছরের মতো, এবার গোলাপ বাগানে তেমন ফুল নেই। কারো বাগানে গোলাপের কলিতে পঁচন ধরেছে, আবার কারো বাগানে নষ্ট হচ্ছে গোলাপ। ভরামৌসুমে গোলাপের এমন অবস্থায়, লাভতো দূরের কথা, খরচও উঠবে কিনা এ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে গোলাপ চাষিরা।

গোলাপচাষী আব্দুর রহমান জানান, প্রায় ২০ যাবৎ গোলাপসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করে। ২সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে ভালই কাটছিলো তাদের দিন। কিন্তু এবার করোনার পাশাপাশি, অজানা ভাইরাসে ক্ষেতের সব গোলাপের কলি পচন ধরে নষ্ট হওয়ায়, পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পোড়েছেন তিনি।

শুধু আঃ রহমানই নয়, মজিদ মিয়া, হান্নান শেখ ও বাবুল মিয়াসহ অনেক চাষীরই এক অবস্থা। অন্যদিকে, শ্যামপুরের ফুল চাষি আমিনুল হক জানান, এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে গোলাপ ফুলের চাষাবাদ করেছিলেন তিনি। সারাবছর বাগানে পরিচর্যায় নিজে ও শ্রমিকদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক, সার ও ভিটামিন দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই এক ভাইরাসে তার বাগান আক্রান্ত। এখনফুল কালো হয়ে ঝরে যাচ্ছে।

মৈস্তাপাড়া গোলাপের হাটে ফুল কিনতে আসা খুচরা ফুল বিক্রেতা আলমগীর জানান, এবার ফুলের উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। তাই চাষিরা ফুলের দাম একটু বেশি চাচ্ছে। একশ ফুলের দাম আকার ভেদে ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজিয়াত আহমেদ জানান, সমস্যাগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। এটা আবহাওয়ার কারণে হতে পারে। সেই সঙ্গে ছত্রাক আক্রান্তের কারণে গাছ মাটি থেকে খাবার নিতে পারছে না। এছাড়া সমস্যা সমাধানের জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ গোলাপ চাষীদের প্রযুক্তি সুবিধাসহ, সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেয়ার কথা জানান তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads