নবম ধাপে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ভাসানচরের উদ্দেশ্য চট্টগ্রামের পথে রওয়ানা হয়েছে আরও ২৬৪ পরিবারের ৭০৫ জন রোহিঙ্গা।বুধবার দুপুর দুই টার দিকে ৪১৪ জন রোহিঙ্গাকে বহনকারী আটটি বাস উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ এলাকা থেকে ছেড়ে যায়। পরে বিকেল টার দিকে একই স্থান থেকে ২৯১ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় আরও আটটি বাস।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, পুলিশ সুপার নাইমুল হক।তিনি জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এসব রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সড়ক পথে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর জাহাজযোগে তাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।
এই ৭০৫ জনসহ এ পর্যন্ত নবম দফায় মোট ১৯ হাজার ৮৪৮ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচর নেওয়া হলো। এর আগে অষ্টম দফা পর্যন্ত ভাসানচর নেওয়া হয় ১৯ হাজার ১৪৩ জন রোহিঙ্গা।
গত ৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর কার্যক্রম নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ বাস্তুচ্যুত এ জনগোষ্ঠীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। তবে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর ৯ অক্টোবর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সহায়তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্মতি প্রকাশ করে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে ইউএনএইচসিআর।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে ছয় দফায় ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হয়। এরপর আরও দুই দফা স্থানান্ত হয়েছে। অষ্টম দফায় ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছিল ৫৫২ জন। সর্বশেষ নবম দফায় দুই ধাপে বুধবার নেওয়া হলো ৭০৫ জন। গত বছর সরকার সিদ্ধান্ত নেয় এক লাখ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। এই উদ্দ্যেশে সরকার ভাসানচরে বাসস্থানসহ অবকাঠামোগত নানা ধরণের অবকাঠামো গড়ে তোলে।





