গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
অসহায় ভ্যান চালক রাজিব খলিফাকে (৩৫) অপচিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অপচিকিৎসার শিকার রাজিব বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সিঙ্গা গ্রামের দিনমজুর বারেক খলিফার ছেলে ও দুই সন্তানের জনক।
সোমবার দুপুরে ভ্যান চালক রাজিব খলিফা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ থাকার সুবাদে বাবুগঞ্জের আগরপুর মিশুক ষ্ট্যান্ড সংলগ্ন হালিমা মান্নান মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত এক মাস আগে চিকিৎসা করাতে যাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়ন বাবু বিভিন্ন ডাক্তারি পরিক্ষার পর আমার হার্নিয়া হয়েছে বলে দ্রুত অপারেশন করার পরামর্শ দেয়। দ্রুত অপারেশন না করালে বড়ধরনের বিপদ হতে পারে বলেও ওই চিকিৎসক বলেন। চিকিৎসকের এমন কথার পর গত ১৬ জানুয়ারি ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হালিমা মান্নান মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হার্নিয়া অপারেশন করাই।
ওই হাসপাতাল থেকে অপারেশন করার পর থেকে আমি আরো অসুস্থ হয়ে পরি। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে পূনরায় হালিমা মান্নান মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায় স্বজনরা। কিন্তু সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার কোন চিকিৎসা না করে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। অভিযোগ করে তিনি (রাজিব) আরও বলেন, বাড়ির পার্শ্ববর্তী হওয়ায় ওই বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলাম সুস্থ হওয়ার আশায়। সেখানের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে বর্তমানে মৃত্যু শয্যায় দিনপার করছি।
অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসাটাও করাতে পারছিনা। তাই বাধ্য হয়ে সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অপচিকিৎসার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ বিষয়ে হালিমা মান্নান মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক নয়ন বাবু বলেন, কাগজপত্র না দেখে কিছু বলতে পারছিনা। ওই রোগিকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন। যদি এখান থেকে অপারেশন করা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তাকে শেরই বাংলা মেডিক্যালে যেতে বলা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাকিলা রহমান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।





