জাতীয়

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ জানুয়ারি, ২০২২

মাঘের শীতের প্রায় মধ্যভাগেও দাম কমেনি সবজির। তবে খানিকটা কমেছে মুরগি, আলু ও পেঁয়াজে দাম। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে ভোজ্যতেল সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ফের বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র উঠে এসেছে।

দিনদিন সবজির দাম বৃদ্ধি ও আবারো ভোজ্য তেলের দাম বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্তের মানুষ। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দুবছর ধরে তাদের শ্রমের মূল্য মোটেও বাড়েনি। উল্টো করোনা মহামারির কারণে কমেছে। দফায় দফায় খাদ্যপণের দাম বৃদ্ধিতে তাদের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। 

প্রতিটি বাজারেই সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সবজির দাম। আর প্রতি কেজি সবজিতে দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। এসব বাজারে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, গাজর প্রতিকেজি ৪০ টাকা, চাল কুমড়ার পিস ৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা ও পেঁপের কেজি ৪০ টাকা।

তবে পুরান ও নতুন আলুর দাম কমেছে। এর মধ্যে নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। পুরান আলুর কেজি ১০ থেকে ১৫ টাকা। সেই সঙ্গে দাম কমেছে পেঁয়াজের। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। 

কমেছে চায়না রসুনের দামও। এ রসুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। দেশি আদার কেজি ৬০ টাকা। চায়না আদার দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। পেঁয়াজ-রসুন বিক্রেতা সামাদ মিয়া বলেন, আমদানি বেশি থাকায় কমেছে আদা, রসুন, আলু ও পেঁয়াজের দাম। দাম বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বাজারে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। পেঁপে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ডাল। ভারতীয় ডালের কেজি ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে এ ডাল প্রতিকেজি বিক্রি হয় ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। দেশি ডালের কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। 

বর্তমানে বাজারে আগের দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। সোনালি (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। অবশ্য বাজারে কমেছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। গতসপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। ১০ টাকা দাম কমে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৬০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা। 

এদিকে, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তবে মন্ত্রীর সেই কথা মানেননি ব্যবসায়ীরা। তারা ভোজ্যতেল সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ফের বাড়িয়েছেন।

গতকাল বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাড়তি দামের বোতলের তেল ইতোমধ্যে বাজারে চলে এসেছে। বোতলের সয়াবিন তেলের পাশাপাশি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম অয়েল।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুদিন ধরে তেলের দাম বাড়তি। বোতলের সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত। পাম অয়েলের দামও কেজিতে ১০ টাকার মতো বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন আসা বোতলের এক লিটার তেলের গায়ের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৫ থেকে ১৬৮ টাকা, যা আগে ছিল ১৬০ টাকা। আর পাঁচ লিটার বোতলের সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮৫ থেকে ৮০০ টাকা, যা আগে ছিল ৭৬০ টাকা।

অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি এখন খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। পাম অয়েলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, তা আগে ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।

মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী শেখ আলাউদ্দিন বলেন, নতুন দামের সয়াবিন বাজারে চলে এসেছে। নতুন দামের বোতলের এক লিটার সয়াবিন তেল আগের থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গায়ের মূল্য ১৬৫ টাকা, আমরা বিক্রি করছি ১৬০ টাকা। আগে এ তেল ১৫৫ টাকা বিক্রি করেছি। একইভাবে পাঁচ লিটার বোতলের সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে।

ফার্মগেটের ব্যবসায়ী মো. করিম বলেন, কয়েকদিন ধরে তেলের দাম বাড়তি। আগে যে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি ১৫০ টাকা বিক্রি করেছি। এখন তা ১৫৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। পাম অয়েলের দামও কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে গেছে। 

জিগাতলায় ১৬০ টাকা কেজি খোলা সয়াবিন বিক্রি করা শফিক বলেন, পাইকারিতে তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। দুদিন ধরে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। বাড়তি দামে কিনে আনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দিলেও গত ১৯ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, আগামী ১৫ দিনে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না। ৬ ফেব্রুয়ারির পর সিদ্ধান হবে তেলের দাম বাড়বে না কমবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads