সারা দেশ

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’

ভোলায় ঢাল চর ও কুকরি মুকরি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত

১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

  • অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা
  • প্রকাশিত ২৫ মে, ২০২১

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে গতকাল রাত থেকে ভোলায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোলার সর্ব দক্ষিণের চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর ইউনিয়ন চালচর ও চরকুকরি মুকরি ইউনিয়ন চার থেকে পাঁচ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে করে দুই ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল সালাম হাওলাদার জানান, সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ করেই পানি বাড়তে শুরু করে। এতে করে ওই চরটিতে থাকা অন্তত ৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠে ঘরের আসবাবপত্রসহ খাবার-দাবার নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া জোয়ারের পানিতে রাস্তাসহ চলাচলের পথ ডুবে গেছে। রাতে পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে এমন আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের কোস্ট ট্রাষ্ট্রের অফিস ও পুলিশ ফাড়ির ভবনে নিরপদ আশ্রয়ে‌ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অপর দিকে কুকুরী মুকুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম মহাজন জানান, সকাল থেকে তার ইউনিয়নের কুকরি মুকরি ও চর পাতিলা ৪ থেকে ৫ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৮ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিকেলে এসব বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নদীতে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার তীরবর্তী এলাকায় নিরাপদে চলে আসতে শুরু করেছে। ঘূর্নিঝড় থেকে উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং করছে কোস্টগার্ডসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ তৈফিক-ই-লাহী চৌধুরী পানিবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ চরগুলোতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে ইতিমধ্যে কোস্টগার্ড ও জেলা প্রশাসনের দুটি ইউনিট ঢালচরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস' মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের গ্রহণ করা হয়েছে। ভোলার উপকূলের ৪০টি দ্বীপচরকে ঝুঁকিপূর্ন চিহ্নিত করে সেখান থেকে ৩ লাখ ১৮ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ৭০৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে ৮ টি কন্ট্রোল রুম। পাশাপাশি ৭৬ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে সিপিপি'র ১৩ হাজার সেচ্চাসেবী ছাড়াও রেডক্রিসেন্ট এবং স্কাউটস কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

এছাড়াও প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায়ও আলাদা টিম গঠন করা হবে। প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসের ১৪ টিম ও স্বাস্থ্যবিভাগের ২০০ কমিউনিটি ক্লিনিকও।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads