আজ রবিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। চাঁদপুরের মতলব উত্তরের আলেকজেন্ডার থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটিার জুড়ে নদীতে ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ।
এ সময় ইলিশকে স্বাচ্ছন্দ্যে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতেই সরকার এই সুযোগ দিয়েছে। এই সময় মাছ ধরা, বিক্রি, বিপণন, মজুত ও পরিবহন নিষিদ্ধ থাকে। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষায় একটানা ২২ দিন চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময়ে নদীতে বালু উত্তোলনে নিয়োজিত ড্রেজার ও ব্যক্তিগত স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন।
এ ছাড়া উল্লিখিত সময়ে আটককৃত জেলে নৌকা এবার নিলামে বিক্রি করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় এবারও কঠোর থাকবে প্রশাসন। যেকোনো মূল্যেই এ অভিযান সফল করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে নদীপাড়ের জেলে, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন মানুষকে তৎপর থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাইব না গরিব জেলেদের আটক করতে। কিন্তু তারা কথা না শুনলে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হব। অভয়াশ্রম চলাকালে আমাদের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি সপ্তাহে দুইবার কম্বাইন্ড টিম অভিযান করবে। রাতের বেলায় বেশি মাছ শিকার হয়। তাই রাতের বেলায় একটি স্পেশাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন তারা অভিযান পরিচালনা করতে পারে। সড়ক পথেও একাধিক চেকপোস্ট থাকবে।
অভিযান চলাকালে একটি নৌকাও নদীতে নামতে পারবে না, এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। অধিক গতি বা একের অধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা রিকুইজিশন করে রাখা হবে। সেগুলো নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, জেলা পুলিশ ব্যবহার করবে।
প্রতিবছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে মিলিয়ে মোট ১৫ থেকে ১৭ দিন হচ্ছে ইলিশের ডিম ছাড়ার আসল সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নদীতে ছুটে আসে। এই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।





