ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশের কয়েকটি উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ময়লার স্তুপ তৈরী হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্চে সড়কে প্রতিনিয়ত চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয়দের। তবে এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও কোনো প্রকার মাথাব্যথা নেই কোনো মহলেরই।
কুমিল্লা জেলার স্তুপগুলোর মধ্যে রয়েছে চান্দিনার প্রায় দুই কিলোমিটার, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লাকসাম অংশে প্রায় এক কিলোমিটার, দাউদকান্দি, চৌদ্দগ্রামের গুনবতী রোড়, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার প্রায় ১কিলোমিটার জুড়ে বেশকয়েকটি স্থানে রয়েছে সারিসারি ময়লার স্তুপ। মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকার কারনে পথচারীরা প্রতিনিয়ত নানা রকম ভোগান্তির স্বীকার হলেও সড়কের পাশে থেকে ময়লার স্তুপ সরানোর কোন স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। কিছুদিন পর ময়লার স্তুপ জমা হলেও কোথাও না সরিয়ে নিয়ে কয়েকদিন পর পর আগুন দেয়া হয় ময়লার স্তুপে। ফলে কয়েকদিন পরই আবারও পুনরায় তৈরী হয় ময়লার স্তুপ।
আবর্জনার স্তুপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধে মহাসড়কে চলাচলকারী হাজারো যানবাহনের যাত্রী, পথচারীরা সমস্যায় পড়ছেন। মহাসড়কের এসব স্থান দিয়ে চলার সময় নাকে রুমাল চেপে চলতে হয় যাত্রী ও পথচারীদের।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এমন বেশ কয়েকটি ময়লার ভাগাড় তৈরি করে প্রতিনিয়তই হাট-বাজারের ময়লা-আবর্জনাসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার হোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনায় যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তেমনি রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর ময়লার স্তুপ আগুন দিয়ে পুড়ানোর ফলে ধোয়া উড়ে শরীরের মারাত্বক ক্ষতির পাশাপাশি সড়কের পাশে গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভবনা রয়েছে।
চান্দিনা উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। ওই মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার পালকি সিনেমা হলের কাছ থেকে সাহাপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুইকিলোমিটার এলাকায় রয়েছে স্তুপের পর স্তুপ ময়লার ভাগড়।
চান্দিনা বাজার তথা উপজেলা সদরের সকল ময়লা আবর্জনার স্থান হয় ওই মহাসড়কের পাশে। ২২ বছর আগে চান্দিনা পৌরসভা গঠনকরা হলেও ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান আজও নির্মিত হয়নি। একই অবস্থা চোখে পড়ে জেলার লাকসাম উপজেলার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে। লাকসাম বাজারের সকল ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় স্থানটিতে। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানো পৌরসভায় নির্মিত হয়নি ময়লা-আর্বজনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান।
ফলে প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনার স্থান হয় সড়কের দুইপাশে। ময়লা আবর্জনার ওই স্তুপ বড় হয়ে গেলেও সেগুলো সরিয়ে না নিয়ে দেওয়া হয় আগুন। ওই আগুনে ময়লার কাগজ-পলিথিন পুড়লেও সেই সাথে পুড়েযাচ্ছে মহাসড়কের পাশে থাকা ছোট-বড়গাছ।
একই চিত্র জেলারসদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের ইউর্টানের দক্ষিণ পাশে, উপজেলা রোড় থেকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সুয়া গাজীসহ দুইপাশে রয়েছে একাধিক ময়লার স্তুপ।
এছাড়াও দেশের প্রধান ব্যস্ততম ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে বৃহত্তম সবজির বাজার নিমসার বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলার সঠিক স্থান না থাকায় সড়কের পাশে ময়লা ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আর্কষন করা হলেও দপ্তরটি দায়সারা ভাবে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছেন।
পদুয়ার বাজার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ইমন হোসেন নামে এক পথচারী জানান, মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করার চিন্তা করাও দায়। সড়কের পাশে ময়লার স্তুপ দেখে মনে হচ্ছে প্রশাসন উদাসীন। আমি এ সড়ক দিয়ে প্রায় চলাচল করি। ময়লার স্তুপের পাশে আসলে নাক চেপে পার হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহাদ উল্লাহ জানান, মহাসড়কের পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলা অপরাধ। পরিবেশ দুষণের পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি প্রেরণ করেছি। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অবৈধভাবে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে এই অঞ্চলের জন্য পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।সড়ক বিভাগ এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন খুবই জরুরি দাড়িয়েছে। ময়লা ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রশাসনের উচিত এই বিষয়ে এখনি কঠোর হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে আমরা সবসময় লেখালেখি করে সামাজিক আলোন্দনের চেষ্টা করছি।





