মাঠে থাকছেন ৬৭০ ম্যাজিস্ট্রেট

প্রতীকী ছবি

নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন

মাঠে থাকছেন ৬৭০ ম্যাজিস্ট্রেট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০২১

দ্বিতীয় ধাপের সাড়ে ৮ শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে মামলার পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের।

এজন্য দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে ৬৭০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে (হাকিম) মাঠে নামিয়েছে ইসি। অন্যদিকে ইউপি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য প্রশাসন ক্যাডারের ৪০ জন কর্মকর্তাকেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

এদিকে চতুর্থ ধাপে ইউপিসহ অন্যান্য নির্বাচনের তফসিল হতে পারে আজ বুবধার। এ বিষয়ে সিইসির সভাপতিত্বে আজ বুধবার বিকালে নির্বাচন ভবনে কমিশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।

সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কারো জন্য নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা আমাদের আছে। আগামীকাল ১১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে।

ইসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশন নির্বাচনি সহিংসতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই পর্যাপ্ত সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামিয়েছে। তারা নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখভাল করবেন।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্মসচিব মো. ফরহাদ আহাম্মদ খান জানিয়েছেন, ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ইউপিতে। এজন্য ১১৩টি উপজেলার প্রতিটির জন্য ৩ জন করে মোট ৩৩৯ জন নির্বাহী হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে। আর বিচারিক হাকিম রয়েছেন ৩৩১ জন। তারা মঙ্গলবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ব্যবস্থা নেবেন তারা। তবে নির্বাহী হাকিমরা থাকবেন শুক্রবার পর্যন্ত।

ইসির আইন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাহীনুর আক্তার জানিয়েছেন, বিচারিক হাকিমরা ভোটের আগে-পরে মোট পাঁচ দিন অর্থাৎ ৯ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা ভেদে কোথাও তিন আবার কোথাও দুই ইউপির জন্য একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। ভোটের ফৌজদারি অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ পরিচালনা করবেন তারা।

শাহীনুর আক্তার জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা) নির্বাচন বিধিমালার অধীন নির্বাচনী অপরাধসমূহ ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ (অ্যাক্ট নম্বর পাঁচ)’-এর ১৯০ ধারার অধীনে আমলে নেওয়া ও তা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন বিচারিক হাকিমরা।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব). শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বিভাগীয় কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে কঠোর হতে বলেছেন। এমনকি প্রার্থিতা বাতিল করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য প্রশাসন ক্যাডারের ৪০ জন কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ঢাকা বিভাগে ১৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন ও বরিশাল বিভাগে ১৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে চতুর্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল হতে পারে আজ বুবধার। এ ছাড়া স্থানীয় অন্যান্য নির্বাচনের তফসিলও হতে পারে আজ। এদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় নির্বাচন ভবনে ৮৯তম কমিশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর তফসিল ঘোষণা করতে পারেন ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খন্দকার।

বৈঠকের আলোচ্যসূচিতের পাঁচটি বিষয় রাখা হয়েছে। এগুলো হলো-চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, স্থানীয় সরকারের অন্যান্য উপনির্বাচন, এনআইডি সার্ভারে ম্যাডনেস স্ট্যাটাস নিয়ে আলোচনা ও বিবিধ।

বৈঠকে ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। তারা জানিয়েছেন, তফসিল হতে পারে। তবে কোথায় কোথায় নির্বাচনের তফসিল তা নির্ধারণ করবে কমিশন।

এরই মধ্যে প্রথম ধাপে ৩৬৯ ইউপির ভোট সম্পন্ন করেছে ইসি। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপিতে ভোট হবে ১১ নভেম্বর। আর তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ৩টি ইউপিতে ভোট হবে ২৮ নভেম্বর।

ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ১১৫টি উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬টি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৮১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এসব ইউপির মধ্যে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৪ হাজার ৭৫ জন। বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে প্রতিদ্বন্ধি রয়েছেন ৩ হাজার ৩১০ জন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৯ হাজার ৪৯৮ জন। বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন ৯ হাজার ১৬১ জন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৭৬ জন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৩০ হাজার ৮৮৩ জন প্রার্থী। বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে রয়েছেন ২৮ হাজার ৭৪৭ জন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২০৩ জন প্রার্থী।

গত ২০ জুন প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ২০৪টি ইউপির মধ্যে ২৮ জন এবং ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১৬০ ইউপির মধ্যে ৪৫ জন চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম ধাপে ৭৩ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপের ভোটে ১৭টি দল প্রার্থী দিয়েছে। দলগুলো হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, কংগ্রেস, জাকের পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, বাসদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি।

ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ৩৬৯ ইউপিতে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে ইসি। ২৮ নভেম্বর ১ হাজার ৩ ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads