মাদরাসার নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে চাঁদা দাবি: ঘোড়াঘাটে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

মাদরাসার নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে চাঁদা দাবি: ঘোড়াঘাটে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

  • ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৫ অক্টোবর, ২০২০

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মাদরাসার উন্নয়ন কাজে বাধা দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা ময়নুল মাস্টারকে (৪৬)  হিলি সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার আসামী ময়নুল মাস্টার দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার চাঁটশাল বিলপাড়া গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং পালশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার ডুগডুগীহাট হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার বারান্দা নির্মাণ কাজ চলাকালীন মইনুল মাস্টার ও ফয়সাল হোসেনের নেতৃত্বে ৬-৭ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে ম্যানেজিং কমিটির লোকজন এসে পুনরায় কাজ চালু করে।

একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ম্যানেজিং কমিটির লোকজন মাদ্রাসার অফিস কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় সংঘদ্ধ দলটি মইনুল মাস্টারের নেতৃত্বে মাদ্রাসারর অফিস কক্ষে আসে। ২ লাখ টাকা চাঁদা না দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করায় অকথ্য ভাষা গালাগালি করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং  উপস্থিত ম্যানেজিং কমিটির লোকজনের ওপর চড়াও হয়ে লাঞ্ছিত করেন।

পরের দিন পয়লা অক্টোবর মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে  ময়নুল মাস্টারসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ঘোড়াঘাট থানায় চাঁদাবাজির একটি মামলা দায়ের করে। এজাহার অনুযায়ী মামলার অন্য  আসামীরা হলেন- উপজেলার ডুগডুগিহাট বাজারের পুড়ইল মোল্লাভাগ গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে ফয়সাল হোসেন (৩৬), দেওগ্রামের মৃত ছাবেদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪২), পালশা পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (৩৬), বিশাইনাথপুর গ্রামের সহিদ হোসেনের ছেলে সজিব মিয়া (৩৭), দেওগ্রাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের ছামসুল ইসলামের ছেলে ইরফানুল হক জুয়েল (৩৫) ও পুড়ইল মোল্লাভাগ গ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে সুমন মিয়া (৩২)।

মাদরাসার উন্নয়ন কাজে বাঁধা দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের পরের দিন মামলার অন্যতম আরেক আসামী দেওগ্রাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের ছামসুল ইসলামের ছেলে ইরফানুল হক জুয়েলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল রবিবার (৪ অক্টোবর) ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের কাছে খবর আসে যে ময়নুল মাস্টার হিলি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর (হিলি) থানা পুলিশের সহযোগীতায় গতকাল রাত ৯টায় ময়নুল মাস্টারকে গ্রেপ্তার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা যায়, ময়নুল মাস্টারের বিরুদ্ধে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঘোড়াঘাট সহ দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, বিলাস বহুল মাদক কোকেন পাঁচার, মারামারি ও পুলিশ এ্যাসাল্টসহ ৭ টি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ ১ অক্টোবর ঘোড়াঘাট থানায় চাঁদাবাজির আরেকটি মামলা রুজু হয়। বহুল আলোচিত ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ময়নুল মাস্টারকে আটক করেছিল দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দীন জানান, গ্রেপ্তার ময়নুল মাস্টারকে আজ দিনাজপুরের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত ছিল। গতকাল দুই থানার সমন্বয়ে তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় অপর ৫ জন আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads