রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই স্কুলের শিক্ষক দুরুল হুদার বিরুদ্ধে মামলা এবং তাকে গ্রেপ্তার করার পরও স্বপদে বহাল রয়েছেন। তাকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এখনও বরখাস্ত করা হয়নি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধি অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে গ্রেপ্তারের দিন হতে এবং জামিন লাভ করলেও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্ত বলে বিবেচিত হবেন।
জানা গেছে, এই নিয়মে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মাচরীসহ মোট ১৭ জনকে সাময়িক চাকুরিচ্যুত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন।
এর আগে গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের শিক্ষক দুরুল হুদার বিরুদ্ধে বাসায় পড়াতে গিয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির উঠে। এ প্রসঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। গত ২৬ ডিসেম্বর পুলিশ ঘটনা প্রসঙ্গে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ২০ নভেম্বর পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত শিক্ষক হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন এবং ১৭ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের কর্মকান্ডে যোগদান করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা দাবি করেছেন, ‘বারবার শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক বরাবর বিষয়টি সমাধানের জন্য লিখিত অনুরোধ করেও সুরাহা হয়নি। এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের ভয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তার লেখাপড়া হুমকির মুখে পড়বে’।
চাকরি বিধি মানা হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি আরও দাবি করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সময়ে ১৭ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রেখেছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান। বরখাস্ত হওয়া ১৭ জনের মধ্যে আছেন ওই স্কুলের প্রভাষক ফজলুল হক নামের শিক্ষকও। যিনি নির্বাচনের সময়ে গাড়ি পোড়ানো মামলায় জেলে গিয়েছিলেন। এছাড়া নারী নির্যাতন মামলা জেলে যাওয়ায় কর্মচারীও বরখাস্ত হয়ে আছেন। তবে যৌন হয়রনির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তাকে বরখাস্ত করছে না ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ’।
জানতে চাইলে ইনস্টিটিউট পরিচালক অধ্যাপক ড. আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় লিগ্যাল সেলে একটি ফাইল পাঠিয়েছিলাম। তারা জানিয়েছিলো স্কুলের অধ্যক্ষের বক্তব্য না থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। তাই ফাইলটি ফিরে আসে। এখন মামলার চার্জশীট হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে চার্জশীট এবং চাহিদাকৃত তথ্য জমা দিয়ে আমরা সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়ে প্রশাসনকে জানাবো। প্রশাসনিক জটিলটার কারণে সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি’।





