নেত্রকোণার কলমাকান্দায় মামার বিয়ের দাওয়াত আসা ৬ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার নামে এক শিশুর পুকুরের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ শরীফুল আলম বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
আজ রোববার সাড়ে ১২টার দিকে কলমাকান্দা উপজেলার খারনই ইউনিয়নের মৃতের নানা বাড়ী বিশ্বনাথপুর সেনপাড়া গ্রামে এ দুঘটনাটি ঘটে।
শিশু সুমাইয়া আক্তার খুলনার বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার ফকিরহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মো. বাবু মিয়া ও অজুফা আক্তার দম্পতির বড় সন্তান। মৃতের বাবা পেশায় একজন হোটেল শ্রমিক ও মা গার্মেন্টস শ্রমিক ।
বিয়ের বাড়ীতে মৃতের মা অজুফা আক্তারসহ আত্মীয় স্বজনরা আল্লাহ’ বলে বিলাপ ও বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বিয়ের বাড়ীসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চলছে শোকের মাতম।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ঢাকার সাভার থেকে ঈদের আগে রোববার মা সহ ছোটভাইকে নিয়ে প্রায় তিনবছর পর গাজীপুরে কর্মরত বড় মামা হারুণের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বনাথপুর সেনপাড়া গ্রামে বেড়াতে যায় । আজ রোববার দুপুরে একই উপজেলার একই ইউনিয়নে শ্রীপুর চৌরাস্তা এলাকায় মৃতের বড়মামা হারুণ মিয়ার বিয়ের বরযাত্রা যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। ওই দিনই সাড়ে ১২ টায় নানা বাড়ির সামনে পুকুরে মৃতের মা অজুফাসহ বিয়ের বাড়ীর ছোটবড় লোকজনের সাথে গোসল করতে যায়। গোসলে শেষে এর কোনও একফাঁকে মাসহ সবার অজান্তে পুকুরে পানিতে ডুবে যায় সুমাইয়া। গোসল শেষে বাড়ীতে এসে তার মেয়ে সুমাইয়াকে দেখতে না পেয়ে ডাকতে থাকেন মা অজুফা। একপর্যায়ে ওই পুকুরের পানিতে নেমে খোঁজ শুরু করে স্বজনেরা। এক পর্যায়ে নানী হালিমা ওই পুকুরের তলদেশ থেকে সুমাইয়াকে উদ্ধার করে। পরে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে খবর পেয়ে মৃতের মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা থানায় এনে সুরতাল প্রতিবেদন তৈরি করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) মো.আশিকুর রহমান।
এ বিষয়ে ইনচার্জ কলমাকান্দার থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) প্রশান্ত কুমার সাহা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় কোন অভিযোগ না থাকায় পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ মৃতের মা অজুফার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।





