মামুনুল হকের ৭৬ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

মামুনুল হকের ৭৬ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১০ মে, ২০২১

হেফাজতের সাবেক ও আলোচিত নেতা মামুনুল হকের ৭৬ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছে গোয়েন্দারা। এর মধ্যে দুটি বাড়ি ও ৬টি মাদরাসা রয়েছে। এ ছাড়া তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গত কয়েক মাসে ৮/১০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনেরও তথ্য পায়। মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে তার দেওয়া বক্তব্যের সত্যতাও পায়। এদিকে মামুনুল হকের জঙ্গি সম্পৃক্তার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। 

গেয়েন্দা সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের দুটি মাদরাসায় ৯ কোটি, ঢাকার ৪ মাদরাসায় ৪৮ কোটি এবং তার দুই বাড়ি মিলে ১৯ কোটি। সর্বমোট ৭৬ কোটি টাকার তার সম্পদ। এ ছাড়া ব্যাংকে রক্ষিত আছে আরো প্রায় ৬ কোটি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের কলাটিয়ায় ১৫ বিঘা জমি তিনি ক্রয় করেন। এক বছর আগে এখানে বাবরি মসজিদ ও মাদরাসা করা হবে বলে তিনি ভিত্তি প্রস্তরও স্থাপন করেন। এখানে মসজিদ ও মাদরাসা স্থাপনের জন্য কাতার, সৌদি, দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা আসে। কিন্তু এটি এখনো নির্মাণ করা হয়নি। এই জায়গাটি বর্তমানে কাঁটাতারে ঘেরা রয়েছে। ভেতরে আমের গাছ লাগিয়ে আমবাগান। বিশেষ লাইটেও সজ্জিত। দূর থেকে মনে হতে পারে এটি বাগানবাড়ি। কিন্তু না এখানেই মসজিদ করার নামে কোটি কোটি টাকা আনা হয়েছে; কিন্তু এই টাকা কোথায় খরচ হয়েছে তার কোনো হিসাব নাই। তবে এই স্থানটি দেখভাল করা আজিজুল হাকিম বলেন, জায়গা নিয়ে বিরোধের কারণে এখানে এখন পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি। কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে রয়েছে তাবিয়াতুল উম্মাহ নামের মাদরাসা। তবে মামুনুল হক গ্রেপ্তারের পর থেকে মাদরাসাটি বন্ধ। জায়গা কেনার পর এই মাদরাসা তৈরি করেন মামুনুল হক। মোহাম্মদপুরের বসিলায় ৮ তলা মহিলা

মাদরাসা তারবিয়াতুল বানাত আল ইসলামিয়া। গ্রেপ্তারের পর এটিও এখন বন্ধ রয়েছে। ঢাকা উদ্যানে জামিয়াতুল আল আজিয়া মাদরাসা আলী নূর রিয়েল এস্টেটে তার আরো একটি শাখা রয়েছে। মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা। ১৫ কাটা জায়গার ওপর বিশাল এ মাদরাসা জোর করে দখলের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া কাদারাবাদ হাউসিং এলাকায় ৬ তলা বাড়ি। এই বাড়িতে থাকতেন তিনি। আর লালবাগেও রয়েছে আরো একটি ৮ তলা বাড়ি। এই বাড়িটি ভাড়া দেওয়া রয়েছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে আমরা তথ্য পায়। তার অ্যাকাউন্টে ৮/১০  কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও রয়েছে আমাদের কাছে।

মানিলন্ডারিং বিষয়ে তথ্যের জন্য আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছি।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলেন,  মানি লন্ডারিং করেছে কি না সেই দিকটা  পাশাপাশি কোন পথের আয়ে তার এ সম্পদ এ বিষয়ে সিআইডি ও দদুক কাজ করতে পারে।

মামুনুলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিটিটিসি : দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার দলটির নেতা মামুনুল হকের সঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

গতকাল রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এ কথা জানান।

বসিলা এলাকায় হেফাজত নেতা মামুনুলের আধিপত্য ছিল, এ ছাড়া তার সঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আটক চার জঙ্গির সঙ্গে মামুনুলের যোগাযোগ ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামুনুলের বিষয়ে আমাদের অফিসাররা বিভিন্ন সময়ে তথ্য জানিয়েছে। তার সঙ্গে জঙ্গি বিষয়ক কিছু কথাবার্তা উঠে এসেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।

এর আগে রিমান্ডে থাকা মামুনুলের বিষয়ে পুলিশ জানায়, ভগ্নিপতি নেয়ামত উল্লাহর মাধ্যমে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয় তার। ২০০৫ সালে তিনি পাকিস্তানে যান এবং সেখানে ৪০ দিন অবস্থান করেন। পরে জঙ্গি ও উগ্রবাদী মতাদর্শ নিয়ে দেশে ফেরেন। দেশে এসে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটান।

পাকিস্তানের ‘তেহেরিক-ই-লাব্বায়িক’ নামে সংগঠনের আদলে তারা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে গঠন করে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো এ দেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিল।

গত ৪ মে মামুনুল হকের দ্বিতীয় দফায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তিনি এখন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ব্যক্তিগত জীবন আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে হেফাজতের আন্দোলনসহ নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রে আছেন মাওলানা মামুনুল হক।

নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সহিংসতায় দেশে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এসব সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশে অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে। মামুনুলকে এসব ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads