মালয়েশিয়ায় ৮২০০টি ফ্ল্যাট রয়েছে বাংলাদেশিদের

প্রতীকী ছবি

এশিয়া

মালয়েশিয়ায় ৮২০০টি ফ্ল্যাট রয়েছে বাংলাদেশিদের

আরো চার হাজার আবেদন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ৫ অক্টোবর, ২০২০

আট হাজার ২০০ বাংলাদেশির ফ্ল্যাট রয়েছে মালয়েশিয়ায়। এছাড়া আরো ৪ হাজার বাংলাদেশির আবেদন রয়েছে। সেকেন্ড হোম হিসেবে যেসব বিদেশি নাগরিক মালয়েশিয়াকে বেছে নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান তৃতীয়।

চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে ১২০০ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় ফ্ল্যাট, বাড়ি কেনার জন্য দেশটির সেকেন্ড হোম প্রকল্পভুক্ত হয়েছেন। এর আগে ৭ হাজার বাংলাদেশি এই প্রকল্পভুক্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। তারা বৈধভাবেই দেশটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট নতুন করে ১২০০ বাংলাদেশির সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের বৈধ অধিকার পাওয়ার তথ্য জানায়। মালয়েশিয়া সরকার বিদেশিদের সে দেশে জমি, ঘরবাড়ি কিনে বাস করার আইনসম্মত অধিকার দিয়েছে। বিদেশি অর্থ, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে তাদের এই নীতি ব্যাপক সাফল্য এনেছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মালয়েশিয়াকে তাদের সেকেন্ড হোম হিসেবে বেছে নিয়েছে। আরো ৫০ হাজারের বেশি আবেদন প্রক্রিয়াধীন। বাংলাদেশ থেকে নতুন যে ৪ হাজার আবেদনকারী রয়েছেন, তারা নির্ধারিত পরিমাণ ফিক্সড ডিপোজিট জমা রেখেছেন এবং মাসিক আয়ও দেখিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তারা সেকেন্ড হোম প্রকল্পভুক্ত হবেন। বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে মালয়েশিয়া আট বছর আগে এ প্রকল্প চালু করে। এতে তারা বিপুল সাড়া পাওয়ার পর বিদেশিদের প্রকল্পভুক্ত করার হার কিছুটা কমিয়ে এনেছে। তবে বাংলাদেশিদের মধ্যে বিপুল সাড়া পড়ার ঘটনা মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকেও বিস্মিত করেছে।

এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিদেশিরা স্থাবর সুবিধা ও রাজস্ব হিসেবে দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করায় অনেক বাংলাদেশি সুযোগ নিচ্ছেন। সম্প্রতি সেকেন্ড হোম কর্মসূচিতে নতুন সংযোজন ও বিধিমালা দেশটির সারওয়াক রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। নতুন নীতিমালায়ও রাজ্যে বাড়ি নির্মাণে বা সেকেন্ড হোম করতে বিদেশিরা আকৃষ্ট হবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

নতুন নীতিমালায় আবেদনকারীদের নিজ দেশের সরকার থেকে ভালো আচরণের একটি চিঠি জমা দিতে হবে। তাদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে এসএমএম-২ এইচ পাসটি বাতিল করা হবে। মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার এবং সীমান্ত বিধি-নিষেধের কারণে বিদেশিরা এ মুহূর্তে সরওয়াকে আসতে পারছেন না। তা সত্ত্বেও সেকেন্ড হোম কর্মসূচিতে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে রাজ্য অনড়। কর্মকর্তাদের মতে, আমরা অপরাধী বা অর্থপাচারের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রাজ্যে স্বাগত জানাই না। 

প্রসঙ্গত, ৫০ বা তার বেশি বয়সি বিদেশিকে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য দেশটির ব্যাংকে দেড় কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট আকারে জমা রাখতে হবে। আবেদনকারীর মাসিক আয় হতে হবে ১০ হাজার রিঙ্গিত। যাদের বয়স পঞ্চাশের নিচে, তাদের ফিক্সড ডিপোজিট তিন কোটি টাকা ও মাসিক আয় দেখাতে হয় ২০ হাজার রিঙ্গিত। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের হোম প্রকল্পভুক্ত হতে আগ্রহী বিদেশিদের ফিক্সড ডিপোজিট ও মাসিক আয় প্রদর্শনের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে। তারপরও বিদেশিদের আগ্রহ কমেনি।

প্রকল্পভুক্ত ও আবেদনকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক ও শিল্পপতি। বাকিরা সাবেক আমলা, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবী। তবে সেকেন্ড হোম করতে যে টাকার প্রয়োজন হয়, তা বাংলাদেশ থেকে কেউই বৈধপথে নেননি বলে জানা গেছে। নিরাপত্তার অজুহাতে চলছে অবৈধভাবে অর্থপাচার। বিষয়টি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও জানে। তবু থামছে না এ অর্থপাচার।

২০১৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল এ নিয়ে একটি কমিটিও করেছিল। ওই কমিটির কার্যপরিধি সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছিল, আয়কর না দিয়ে অবৈধভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার বা সেকেন্ড হোম নির্বাচন করেছেন, তাদের তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থা নেওয়ার কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিন সদস্যের বিশেষ টিম সেকেন্ড হোম নেয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনুসন্ধানও চালিয়েছিল।

এছাড়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদি মালয়েশিয়ান ভিসা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির পরই কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি। জানা গেছে, এ ধরনের সুবিধা পেতে মালয়েশিয়ার ব্যাংকে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা রাখা বাধ্যতামূলক সত্ত্বেও সুযোগ গ্রহণকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেকেই বলছেন, মালয়েশিয়া টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করায় বাংলাদেশিরা এ সুযোগ নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবাসী বলেন, বাংলাদেশের সরকারকে বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। কেন নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বসবাস করতে যাচ্ছে মানুষ, তা জানতে হবে। মালয়েশিয়া আমাদের জন্য যা করতে পারছে, আমরা কেন তা পারছি না। বাংলাদেশ কবে অন্য দেশের মানুষের সেকেন্ড হোম হবে, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। সেকেন্ড হোমের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ প্রবাসী কমিউনিটি নেতা বলেন, জীবনের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা ছাড়াও মালয়েশিয়ার শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও বাংলাদেশিদের সেকেন্ড হোম বানানোর অন্যতম কারণ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads