করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে সরকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ কৌশলের দিকে যাচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কেউ চলতে পারবে না বলে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান।
গতকাল (রবিবার) গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, আগেও বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তার পরও আজ (গতকাল) পাঁচটি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোরভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলেছি। সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ জনসমাগম-সামাজিক অনুষ্ঠান, ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
তিনি বলেন, সড়ক, রেল, নৌ ও বিমানপথে যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ধর্মীয় বিষয়গুলোতেও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতেই হবে। সব ক্ষেত্রেই আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বড় ভূমিকা রয়েছে। আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। আমাদের এখন সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে মাস্ক ছাড়া কেউ চলতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো কিছু বন্ধ করতে চাই না। কিন্তু সতর্কতার জন্য নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় জনজীবন যতটা স্বাভাবিক রাখা যায়, তার চেষ্টা করছি।’
ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে করোনার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির অংশ হিসেবে জানিয়েছেন, কভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণের কারণে কভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। চলমান কভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে ব্যবহৃত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ গ্রহণের ন্যূনতম দুই সপ্তাহ পর থেকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ সক্ষমতা তৈরি হয়। তাই এই সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সুতরাং ভ্যাকসিন গ্রহণের আগে এবং পরেও মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত এবং ৪০ বছর ও এর বেশি সবাইকে কভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমে নিবন্ধন করে নির্ভয়ে টিকা দিতে হবে।





