জাতীয়

মিলছে না আয়-ব্যয়ের হিসাব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩০ অক্টোবর, ২০২১

দীর্ঘদিন ধরে করোনা ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবন। সেইসাথে দফায় দফায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে তাদের কষ্ট আরো বেড়েছে। কোনোভাবেই নিত্যপণ্যের দামের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না সরকার। 

চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা-ময়দা, আলু ও ডিমের দাম বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে শীতকালীন সবজি বাজারে উঠলেও স্বস্তি নেই। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজ ও মুরগির দাম খানিকটা কমেছে। তবে বেড়েছে ডিমের দাম। তেল, আলু, মরিচের দামও আকাশছোঁয়া। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। সংসার চালাতে করছেন ধার-কর্য।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে সবচেয়ে বেশি  বেড়েছে পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের দাম। এক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। এই সময়ে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে পণ্য দুটির দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত। ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম এখন ১৫০-১৫৫ টাকা, যা এক মাস আগেও ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা। আর এক বছর আগে ছিল ৯০-৯২ টাকা। ফলে বছরের ব্যবধানে ভোজ্যতেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

এ ছাড়া চালের দাম এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১১ শতাংশ। মোটা চালও এখন ৫০ টাকা কেজি। খোলা ও প্যাকেটজাত উভয় ধরনের আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে ২ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। প্যাকেটজাত আটার দাম এক মাসে বেড়েছে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা আর খোলা ময়দা ১৬ টাকা পর্যন্ত। টিসিবির হিসাবে, প্রতি কেজি লাল চিনির দাম ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই মাস আগে এ চিনির দাম ছিল ৬৫-৭০ টাকা। আমদানি করা মোটা দানার ডালের প্রতি কেজির দাম ৯০ টাকা, যা তিন মাস আগে ছিল ৭০ টাকা। এক বছর আগেও এ ডালের দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৫ টাকা। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জালাল বলেন, পূজার সময় ভারত থেকে পেঁয়াজ কম আসায় দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন বাজারে পেঁয়াজের অভাব নেই। দেশি ও আমদানি করা উভয় ধরনের পেঁয়াজ পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। এ কারণে পেঁয়াজের দাম কমছে।

দাম কমার তালিকায় আছে ব্রয়লার মুরগিরও। ব্যবসায়ীরা কেজি বিক্রি করছেন ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগি এবং লাল লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির দাম কমার বিষয়ে মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, মাঝে বাজারে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কিছুটা কমে গিয়েছিল। এখন আবার বাড়ছে। এ কারণে দামও কমতে শুরু করেছে। পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে ডিমের দাম। গত সপ্তাহে ১১০ টাকা ডজনের ডিম কিনতে এখন ক্রেতাকে গুণতে হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।

হঠাৎ ডিমের দাম বাড়ায় নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী মো. আলম বলেন, প্রতিবছর এ সময় ডিমের দাম বাড়ে। এবারো সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া মুরগির দাম বেশি হওয়ায় ডিমের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। এটাও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

বাজারে আগের মতো গাজর ও টমেটো বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। মানভেদে এক কেজি গাজর ১০০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। এ দুই সবজির পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অন্যান্য সবজিও। শীতের আগাম সবজি শিম গত সপ্তাহের মতো কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ছোট ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। মূলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এসব সবজির দামের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে চিচিঙ্গা, বরবটি, ঢেঁড়শ, পটল, করলার দাম খুব একটা হেরফের হয়নি। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, পটোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়শের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে, বরবটির কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এছাড়া কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাল শাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকা, মূলা শাকের আঁটি ১০ থেকে ১০ টাকা, কলমি শাকের আঁটি ৫ থেকে ১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

পুরানা ঢাকার ব্যবসায়ী করিম আলি বলেন, সবজির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে। শীতের কিছু আগাম সবজি বাজারে এসেছে। দিন দিন এগুলোর সরবরাহ বাড়ছে। তবে শীতের সবজি পুরোপুরি বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহামারি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে টানা লকডাউনে কাজ হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ। বেশির ভাগ কর্মজীবীর আয় কমেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রায় সব মানুষেরই নাভিশ্বাস উঠেছে জীবন চালাতে। সংসার চালাতে না পেরে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। তাই নিত্যপণ্যের লাগাম টেনে না ধরতে পারলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জীবন চরম সংকটে পড়বে বলে মনে করেন তারা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads