মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে গাছের গুড়ি বহনকারী কাঠসহ ট্রাক নিয়ে একটি বেইলি ব্রিজ খালের পানিতে ভেঙে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার(১৮ মার্চ) রাত সোয়া ১২ টার দিকে উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ঘোলতলী এলাকার মুন্সিগঞ্জ-টঙ্গীবাড়ী-মাওয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে এ পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন এ পথের যাত্রী ও চালকরা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে আমরা কেউ বাড়িতে, কেউ মসজিদে শবেবরাতের নামাজ পড়ছিলাম। সোয়া ১২ টার দিকে হঠাৎ কিছু ভেঙে পড়ার বিকট শব্দ শুনতে পাই। ঘোলতলী বাজারে কাছে আসতেই দেখা যায় গাছের গুড়িবোঝাই বড় একটি ট্রাক সেতুসহ খালের পানিতে ভেঙে পড়েছে। ট্রাকটি গাছের গুড়ি নিয়ে বালিগাঁও থেকে মাওয়ার দিকে যাচ্ছিলো। তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির চালক ও তার সহকারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটি মধ্যখান থেকে ভেঙে পানিতে পরে আছে। ডুবে আছে গাছের গুড়িবাহী ট্রাকটি। সড়কের দুই পাশ থেকে আশা যাত্রী ও চালকরা সড়ক বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্রীজের গোড়ায় এসে আক্ষেপ নিয়ে চলে যাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শাহিন খান বলেন, ট্রাকটি কাঠসহ পানির নিচে রয়েছে। সেতুটির মধ্যখানে ভেঙে পড়ায় এই পথে গাড়ি যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সাইদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, সেতুটি সরু ছিল। লক্কর-ঝক্কর মার্কা। একটি গাড়ি গেলে আর একটি গাড়িকে সেতুর অপর প্রান্তে অপেক্ষা করতে হতো। সেতুতে গাড়ি উঠলেই সেতু কাঁপতে থাকতো। বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেতুটি ভেঙে পড়ল।
শ্রীনগর ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ বলেন, বেইলি সেতু ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে ঘটনা স্থলে যাই। হতাহত কেউ ছিলনা। মূলত জরাজীর্ণ সেতু ও অতিরিক্ত ওজনের কারনেই সেতুটি ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, এটি মুন্সিগঞ্জ-টঙ্গিবাড়ী-লৌহজং উপজেলার মানুষের জন্য প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এপথ দিয়ে বড় বড় মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। প্রতিদিন জেলার তিনটি উপজেলাসহ আশেপাশের অর্ধলক্ষ মানুষ যাতায়াত করে। এখানে বেইলি সেতু স্থাপন করা হলে আবারো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত এখানে পাকা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
মুন্সিগঞ্জ-টঙ্গিবাড়ী- মাওয়া পথের সিএনজি চালক জাকির হোসেন বলেন,আজকে গাছের গুড়ি নিয়ে ঘোলতলীর সেতুটি ভেঙে পড়লো। এ সড়কটিতে মুন্সিগঞ্জ,টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলার অংশে এমন আরো ৮-১০ টি ঝুঁকি পূর্ণ বেইলি সেতু আছে। এ সেতুগুলো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে দ্রুত অপসারণ করা দরকার। তানাহলে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) আব্দুল আউয়াল শনিবার সকালে বলেন,ট্রাকটি বালিগাঁও থেকে লৌহজংয়ের দিকে যাচ্ছিলে। ট্রাকের চালক ও সহকারি হাসাতাল থেকে পালিয়েছে।অতিরিক্ত ওজনের কারনে সেতু ভেঙেছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কংক্রিটের সেতুর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।
মুন্সিগঞ্জ সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী(সওজ) নাহিন রেজা বলেন,ট্রাক উদ্ধার এবং বেইলি সেতু পুনঃনির্মাণের জন্য সংশিষ্ট লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে। সড়ক পথে যোগাযোগ চালুর জন্য আবারও এখানে এই বেইলি সেতুটি স্থাপন করা হবে।খুব শীঘ্রই বেইলি সেতু অপসারণ করে সেখানে কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হবে। এজন্য সেতুগুলো ঝরাঝির্ণ সেতু প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে।





