মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও লৌহজং উপজেলায় পৃথক অভিযানে আট হাজার কেজি (২০০ মণ) জাটকাজব্দ করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করার পাশাপাশি একটি ট্রাক ও একটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে গজারিয়া উপজেলার থ্রি এঙ্গেল শিপইয়ার্ডের কাছে মেঘনা নদীতে জাটকা বোঝাই একটি ট্রলারসহ ৪ জনকে আটক করে গজারিয়া নৌ-পুলিশ। এ সময় ট্রলার থেকে চার হাজার কেজি (১০০ মণ) জাটকা ইলিশ উদ্ধার করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী তিনজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন চাঁদপুরের উত্তর মতলব এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী সজিব (৩০), আলি আহম্মদ (৬২) ও আতাউর রহমান (৩২) । তাদের প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া এক কিশোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, জাটকা ইলিশ বিক্রি করার জন্য চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দ্যেশে যাচ্ছিলেন তারা। পথমধ্যে থ্রি এঙ্গেল শিপইয়ার্ডের কাছে মেঘনা নদীতে আসলে গজারিয়া নৌ-পুলিশ তাদের আটক করে। এসময় ১০০ মণ জাটকাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। পরে মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনে এক বছরের কারাদণ্ড ও একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে, লৌহজং উপজেলার হলদিয়া নামক স্থানে ঢাকামুখি একটি ট্রাক থেকে চার হাজার কেজি (১শ মণ) জাটকা ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার ভোর ৪টার দিকে বিশটি ড্রাম ভর্তি জাটকা ইলিশসহ ট্রাকটি জব্দ করা হয়। এসব জাটকার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮লাখ টাকা বলে জানায় মাওয়া নৌ-পুলিশ।
মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির জানান, শিমুলিয়া ঘাট থেকে ঢাকায় জাটকা নেওয়া হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে হলদিয়া এলাকার সড়কে অবস্থান নেই। পরে ভোরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জাটকা বোঝাই ট্রাক রেখে পালিয়ে যায় পাচারকারি চক্র। এসময় ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১শ মণ জাটকা উদ্ধার করা হয়। পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটি নৌ-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
পরে সকালে স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে মাছগুলো বিতরণ করা হয়।





