মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কারণেই বাংলাদেশ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা বাস্তবায়ন। বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ ফ্রিল্যান্সার ঘরে বসে উপার্জন করছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের ফল।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় আন্তরিক। আমিও ময়মনসিংহের উন্নয়নে আপনাদের পাশে থাকবো। ময়মনসিংহে কৃষি ও মৎস্য জাত পণ্য যেহেতু অগ্রগামী তাই কৃষকরা যাতে সঠিক মূল্য পায় সেজন্য এগ্রোপ্রসেসিং, ফুড প্রসেসিং কারখানার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে। ময়মনসিংহকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলার করার ব্যবস্থা করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর টাউন হল মাঠে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান আরও বলেন, এছাড়া বেক্সিমকো এর পক্ষ থেকে ময়মনসিংহে একটি প্রতিষ্ঠান কল কারখানা স্থাপনের বিষয়েও তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু। ময়মনসিংহের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী দাওয়া রেখে তার বক্তব্য প্রদান করেন। বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ময়মনসিংহের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। এ সফর ময়মনসিংহের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো বলেন মেয়র টিটু।
এর পুর্বে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিল্পায়নের সম্ভাবনা-সংকট-সমাধান নিয়ে সিটি করপোরেশনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে 'দি ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি' এর আয়োজনে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওই মত বিনিময় সভার সভাপতি ময়মনসিংহের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি মোঃ আমিনুল হক শামীম প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমানের নিকট বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেন।
নাগরিক সমাবেশের উদ্যোক্তা ইমরান উমর বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোতে যাতে ব্যবসায়ীরা প্রাধান্য পায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা শিল্পাঞ্চল করার দাবি জানান তিনি।
জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন কালাম বলেন, শহরের রাস্তা ও যানজট সমস্যা নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।
ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, এ অঞ্চলে প্রচুর কাঁঠাল ও আনারস হলেও উপযুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা না থাকায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিসিকের আয়তন বৃদ্ধি ও ইপিজেড যদি পরিকল্পিতভাবে করা যায় তাহলে আগামীতে সমৃদ্ধ শহর হবে ময়মনসিংহ।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফ আহমেদ, নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন, ভালুকার এমপি কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু, গফরগাঁওয়ের এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল, সংরক্ষিত আসনের এমপি মনিরা সুলতানা মনি, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক আবদুল হালিম, উপ-পরিচালক একেএম গালিব খান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার স্বাগতা ভট্টাচার্য, এফবিসিসিআই এর সহসভাপতি এম.এ রাজ্জাক খান প্রমুখগণ নাগরিক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদান করেন।
নাগরিক সমাবেশ ও মত বিনিময়সভায় ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ডিসি এনামুল হক, অতিরিক্ত এসপি ফাল্গুনি নন্দী ছাড়াও জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন, উদ্যক্তা,ব্যবসায়ী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ জেলার বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন।





