ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গত এক বছরে ১৬ জন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন; যারা মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামি। নিহতরা জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা, হত্যা, সন্ত্রাসী কাজ, ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন।
ডিবির ওসি শাহ কামাল হোসেন যোগদানের পরপরই পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনের নির্দেশে জেলাব্যাপী মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিলে শুরু হয় অভিযান।
২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ওসি শাহ কামাল হোসেন আকন্দ অভিযানে নামেন। প্রথমেই কোতোয়ালি মডেল থানার হত্যা ও মাদক মামলার আসামি মোহাম্মদ শরীফ ১৪ অক্টোবর ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। নিহত শরীফ কৃষ্টপুর নিবাসী নাজিম উদ্দিন ওরফে হাতকাটা নাজিমের ছেলে। পরদিন অর্থাৎ ১৫ অক্টোবর হত্যা ও মাদক মামলার আসামি পায়েল ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। নিহত পায়েল পুরোহিতপাড়ার জালালের ছেলে।
৩ নভেম্বর মুক্তাগাছা থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামি সন্ত্রাসী আবদুল্লাহেল কাফি মুক্তাগাছার কাঁঠালিয়া এলাকার জলই ব্রিজের সামনে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। একই দিন কোতোয়ালি মডেল থানার হত্যা ও মাদক মামলার আসামি আলমগীর শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তার বাবার নাম ইব্রাহীম। কালীবাড়ী পুরাতন গোদারাঘাট এলাকায় তার বাসা। ১৪ নভেম্বর হত্যা ও মাদক মামলার আসামি সুমন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তার বিরুদ্ধে কোতেয়ালি মডেল থানায় মাদক ও হত্যা মামলা ছিল। সুমনের বাসা সদরের চর কালীবাড়ি এলাকায়।
গত বছরের ২২ নভেম্বর ভালুকা থানা এলাকার নয়নপুর এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন ভালুকা থানার ৫ মামলার আসামি মোবারক হোসেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ নানা অভিযোগ ছিল। নিহত মোবারকের বাবার নাম মৃত মিয়ার উদ্দিন। ভালুকার নয়নপুরে তার বাড়ি।
চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানার হত্যা ও মাদক মামলার আসামি আবদুর রশিদ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। শহরের ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকার হোমিও কলেজের সামনে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি মারা যান। নিহত রশিদ মোহাম্মদ রফিকের ছেলে। শহরের ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার বাড়ি।
এদিকে, এ বছরের ৩ মার্চ কোতোয়ালি মডেল থানার হত্যা ও মাদক মামলার আসামি লালু মিয়া বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। লালু মিয়ার বাবার নাম আক্তার হোসেন। কৃষ্টপুর বাগানবাড়ি এলাকায় তার বাসা। একই বছরের ৪ মে নান্দাইল মডেল থানার হত্যা, মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি হযরত আলী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। নান্দাইলের সাভার গ্রামে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি মারা যান। নান্দাইল উপজেলার সাভার গ্রামের মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। গত ৫ আগস্ট কোতোয়ালি মডেল থানার মাদক ও হত্যা মামলার পলাতক আসামি শহরের জনি মিয়া ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। পাটগুদাম এলাকার আটানীপাড়ের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
গত বছরের ২২ আগস্ট গফরগাঁওয়ের পাগলা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যা, মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি এখলাছ উদ্দিন পাগলা থানাধীন চাকুয়া এলাকায় ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম। এ বছর ২ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানার মাদক, হত্যা মামলার আসামি খলিল মুক্তাগাছা বাইপাস এলাকায় ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তিনি জামালপুর জেলা সদরের দাপুনিয়া এলাকার মৃত আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বাকতার বাকচালা গ্রামের বাসিন্দা।
চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানার হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি সজল মিয়া ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। দিঘারকান্দা বাইপাস মোড়ে এই ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। নিহত সজলের বাবার নাম আরজু মিয়া। তার বাসা শহরের কৃষ্টপুর এলাকায়।
ভালুকা এলাকার হত্যা ও মাদক মামলার আসামি রুবেল এ বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। জমিরদিয়া টু হবিরবাড়ি পাকা রাস্তায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’র এ ঘটনা ঘটে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর তারাকান্দা এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, হত্যা মামলা ও মাদক মামলার আসামি আবদুল করিম ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তার বাবার নাম মৃত আব্বাস আলী। ওইদিন তারাকান্দায় মোকামিয়াকান্দা এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি মারা যান।
গত এক বছরে ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, হত্যাকারী, সন্ত্রাসীরা নিহত হলেও মাদক ব্যবসা এখন আর প্রকাশ্য হয় না।
ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, জেলা পুলিশ সুপার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও হত্যাকারীরা এখন আতঙ্কে রয়েছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।





