যশোরের রাজারহাট চামড়ার বাজার, দাম নিয়ে অসন্তষ্ট ব্যবসায়ীরা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

যশোরের রাজারহাট চামড়ার বাজার, দাম নিয়ে অসন্তষ্ট ব্যবসায়ীরা

  • শহিদ জয়, যশোর
  • প্রকাশিত ১৬ জুলাই, ২০২২

যশোরে ঐতিহ্যবাহী রাজারহাট চামড়ার বাজার। প্রতিবছরের মতো কোরাবানি ঈদের পর বসেছে চামড়া বাজার। বাজারে চামড়ার আমদানি আশানুরূপ হলেও দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, হাটে চামড়া এনে তারা লাভ করবেন কী, বড় অংকের টাকা তাদের ক্ষতি হয়েছে। তবে আড়ৎদার ও ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামেই- এমনকি ক্ষেত্রবিশেষেও একটু বেশি দামেও তারা চামড়া কিনছেন।

ঈদের পর দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট যশোরের রাজারহাটে প্রায় ১৫ হাজার চামড়া ওঠে। প্রতিবারের মতো এবারও খুলনা বিভাগসহ আশেপাশের জেলা থেকে রাজারহাটে জায়গা উপচে রাস্তার পাশেও চামড়া নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। চামড়া দাম নিয়ে তাদের আক্ষেপ ছিল। যশোরের বাগআচঁড়া থেকে থেকে হাটে আসা ক্ষুুদ্র ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, আজকের হাটে ২০০ পিস চামড়া এনেছি। এর মধ্যে ৩০ পিস ১২৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বেশিরভাগ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে। হাটে ভালো চামড়া ২৮ টাকা এবং ছোট চামড়া ২২ টাকা বর্গফুট দরে বিক্রি করায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। 

একই বাগেরহাট থেকে আসা রুস্তম আলী ৩০০ পিস চামড়া আনেন। এর মধ্যে বড় চামড়া ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং ছোট চামড়া ১০ টাকা বর্গফুট দরে বিক্রি করেছেন। সরকার নির্ধারিত ৪৪ টাকার স্থলে গড়ে ৩০ টাকা ফুট দরে বিক্রি করায় তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা গচ্চা গেছে। প্রতিবার এভাবে ক্ষতি হতে থাকায় তিনি চামড়া ব্যবসা করবেন না বলে জানিয়েছেন। 

খুলনার দিঘলিয়া থেকে আসা ওয়াহেদুজ্জামান জানান, আজকের হাটে তিনি সর্বোচ্চ ২৮ টাকা দরে চামড়া বিক্রি করেছেন। এতে মোটের পরে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লস হয়েছে তার। 
বাগেরহাটের মোংলা থেকে ১৫০ পিস চামড়া আনেন নিতাই দাস। বেলা ১১ টা পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চামড়া বিক্রি করেননি। তিনি বলেন, চামড়া প্রতি গড়ে খরচ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অথচ, ক্রেতারা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দাম বলেছেন। 

গোপালগঞ্জ থেকে সুকুমার বিশ্বাস ২০০ পিস চামড়া নিয়ে আসেন। বড় চামড়ায় তার খরচ হয়েছে হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রি করেছেন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। অর্থাৎ, প্রতি বর্গ ফুট বিক্রি সর্বোচ্চ ২৮ টাকা। আর ছাগলের চামড়ার দাম বলছে ৫ থেকে ৬ টাকা করে প্রতি পিস।

তিনি জানান, ট্যানারি মালিক প্রতিনিধি ও আড়তদাররা চামড়ার দামের বিষয়ে যেকথা বলছেন, তা সত্য নয়। উনারা বেশি দামে কিনছেন বলে মিডিয়ার সামনে ভুল তথ্য উপস্থাপন করছেন।  

ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে হাটে আসা খোকন ট্যানারির প্রতিনিধি আবু বকর সিদ্দিকী শাহীন বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া সংগ্রহ করছি। কিছু চামড়া নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে কিনেছি। আজকের হাটে খরিদ্দার বেশি হওয়ায় বাজার ভালো। দুই হাজার পিস চামড়া কেনার লক্ষ্য নিয়ে আজকে হাটে এসেছি। ইতিমধ্যে ৬শয়ের বেশি চামড়া কেনা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৭শ' টাকা দরে চামড়া কিনেছি। 

তিনি দাবি করেন, হাটে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না।

বৃহত্তর যশোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, আশানুরূপ চামড়া উঠেছে। ঈদ পরবর্তী এ হাটে বেচাকেনা ভালো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দামেই ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনাবেচা করছেন। 

রাজারহাটে যশোরসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার পাশাপাশি ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর, ঝালকাঠি, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী ও নাটোরের বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনাবেচা করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads