যে কারণে আখাউড়ায় বিএনপির ভরাডুবি

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

যে কারণে আখাউড়ায় বিএনপির ভরাডুবি

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১


আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কাছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন আব্দু পরাজিত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ৭৭৮ ভোট। নির্বাচনে হারার জন্য দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা জানায়, সাংগঠনিক দুর্বলতা, দক্ষ নেতৃত্বের অভাব ও দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর এ শোচনীয় পরাজয় হয়। তাছাড়া দুর্দিনে দলের নেতারা কর্মীসহ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পাড়ায় এ নির্বাচনে অনেকটাই প্রভাব পড়েছে বলে তারা মনে করেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মেয়র পদে ৪ জন, মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪১ জনসহ মোট ৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ১১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এ পৌরসভায় মোট ভোটারসংখ্যা ২৮ হাজার ৯শত ৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ হাজার ২৩১ জন ও নারী ১৪ হাজার ৬৭৯ জন। পৌরসভা নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ১৬ হাজার ৭শত ৩৩ টি।

আখাউড়া পৌর সভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত । ওই ৯টি ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১১টি। ওই ১১টি কেন্দ্র থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাঙ্খিত কোন ভোট পাইনি। বেশী ভাগ কেন্দ্রে ভোট পেয়েছে ১০০ এর নিচে। এমনকি প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র শহীদ স্মৃতি কলেজেও ভরাডুবি হন।

এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো.তাকজিল খলিফা কাজল ১৫হাজার ১শত ৪৯ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হন । স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক মেয়র নূরুল হক ভূইয়া (নারিকেল গাছ প্রতীক) ভোট পেয়েছেন ৫৯৫ টি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় এ পৌরসভা নির্বাচন।

পরাজয়ের কারণ হিসাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানায়, পৌরসভা নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর একক প্রার্থী নির্ধারণে ভালো সময় চলে যায়। শেষ মুহুর্তে এসে জয়নাল আবেদীনকে দলের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া তফসিল ঘোষণার আগ মুহুর্তে উপজেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া ও বহিরাগত, অপরিচিত, অদক্ষ, আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকাহীন লোকজনকে দিয়ে পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করায় দলে নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ওই কমিটি থেকে ১১ জন সদস্য পদত্যাগ করায় বিপাকে পড়ে দলটি।

পাশাপাশি উপজেলা যুবদল, ছাত্রদলে আহবায়ক কমিটি নিয়ে একই অবস্থা বিরাজ করায় ক্ষোভে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যক্রমসহ পৌরসভা নির্বাচন থেকে দুরে থাকায় ভোটের মাঠে এর খেশারত দিতে হয় দলটির।

তাছাড়া যেসব নেতার ওপর নির্বাচনী পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তারা মূলত কার্যত কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় অংশ নিয়েছিলেন ঠিকই তবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে না গিয়ে প্রচারনা সেরেছেন দায়সারা ভাবে। সেইসাথে দ্বন্দ্ব নিরসনে কার্যত কোন ভূমিকা পালন করতে না পারায় ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে দলের তৃণমুল নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতে ব্যর্থ হয় বলে একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানায়।

অন্যদিকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী তাকজিল খলিফা কাজলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের নেতাকর্মী,সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন মাঠে নেমে দিন রাত কাজ করে। কিন্তু নির্বাচনের শুরুতেই দলীয় কোন্দলে খোচট খাওয়ায় বিশাল ভোটে তাদের পরাজয় হয়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads