যে গ্রামে মানুষ নেই

প্রতীকী ছবি

ধর্ম

যে গ্রামে মানুষ নেই

  • ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৪ জুন, ২০২১

গ্রাম আছে, মানুষ নাই! হঠাৎ কথাটি শুনে অবাক হওয়াই স্বাভাবিক। আসলেই এমন একটি মানুষশূন্য গ্রাম রয়েছে জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলায়। গ্রামটি উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। গ্রামের নাম মঙ্গলপুর। সেখানে দেখা যায়, কোনো জনবসতি নেই। গ্রামজুড়ে ধান, মুশুরি, ইক্ষুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত আর ফলের বাগান। রয়েছে বেশ কয়েকটি বসতভিটার ধ্বংসাবশেষ, আছে বেশ কয়েকটি পুকুরও। এসব দেখেই ধারণা করা যায়, এক সময় এ গ্রামে মানুষের বসতি ছিল, এখন নেই।

কেন নেই? এই প্রশ্ন জানতে চাওয়া হয় পাশের গ্রাম বলাবাড়িয়ার ৯৫ বছর বয়সী আ. খালেক খানের কাছে। বর্তমানে তিনিই ওই গ্রামের বয়স্ক ব্যক্তি। আ. খালেক খান বললেন, আমি নিজে মঙ্গলপুর গ্রামের মানুষ শূন্য হওয়ার বিষয়ে খুব একটা জানি না। তবে বাপ দাদাদের কাছে শুনেছি, এক সময় এই মঙ্গলপুর গ্রামে মানুষ ছিল। তাদের অনেকের গোলাভরা ধান ছিল, গোয়ালে গরু ছিল। গ্রামটি প্রায় মানুষশূন্য হয়ে পড়ে আজ থেকে দেড়শ বছর আগে।

সর্বশেষ হাজরা ঠাকুর, নিপিন ঠাকুর-এরা ৪/৫ ঘর মানুষ তিনি দেখেছেন। আজ থেকে ৮০/৮৫ বছর আগে তারাও ঘরবাড়ি ভেঙে চলে যায়। তিনি বলেন, পরবর্তীতে এরা হয়তো মাঠের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ করেনি, সে কারণে চলে গেছেন। ঘরবাড়ি ভেঙে আগে যারা গেছেন তারা কি কারণে চলে গেছে এ সম্পর্কে তেমন কিছু তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

বলাবাড়িয়া গ্রামের মুক্তার আলী বলেন, শুনেছি মঙ্গলপুর গ্রামের মঙ্গল পাঠান নামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন; তার নামেই গ্রামটির নাম মঙ্গলপুর। মঙ্গল পাঠানের তিন একর জমির ওপর ছিল বিশাল বাড়ি। বাড়ির চতুর ধারে উঁচু করে ৩০ থেকে ৪০ ইঞ্চি চওড়া মাটির প্রাচীর ছিল। পাশের পুকুরের উঁচু পাড়ে দাঁড়িয়ে নাকি বাড়ির ভেতরের কাউকে দেখা যেত না। ওই পরিবার ছিল ভীষণভাবে পর্দাশীল।

বউ-মেয়েরা কখনো বাইরের পুরুষের সঙ্গে দেখা করতো না। মঙ্গল পাঠান সেখানেই মারা যান। তার কবরও রয়েছে এই গ্রামে। তিনি আরো বলেন, শুনেছি ১২ জাতির বাস ছিল এ গ্রামটিতে। অত্যাচারিত হয়ে ওই গ্রামের মানুষ গ্রাম ছেড়েছে এমন কথা কখনোই শুনিনি। তবে কি কারণে ধীরে ধীরেমানুষ গ্রাম ছেড়েছে তার পিতাও বেঁচে থাকা অবস্থায় বলতে পরেননি বলে জানান তিনি।

ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর খান বলেন, মঙ্গলপুর গ্রামের জমিজমা সব পরবর্তীতে ওই গ্রামের বসতিদের উত্তরসূরিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষের কাছে বিক্রি করে গেছেন। এখন মঙ্গলপুর গ্রামজুড়ে শুধুই ফল-ফসলের মাঠ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads