যৌন হয়রানির মামলাতেও সিরাজের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

ফাইল ছবি

অপরাধ

যৌন হয়রানির মামলাতেও সিরাজের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

  • ফেনী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৮ অক্টোবর, ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নুসরাতের পরিবার। গত ২৮ মার্চের এ মামলার জের ধরেই নুসরাত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।  

গতকাল রোববার এ মামলায় বাদীর সাক্ষ‌্য দেওয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতের অধিবেশন না থাকায় তা পিছিয়ে চলতি বছরের ১৩ নভেম্বর সাক্ষ‌্য দেওয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, চলতি বছরের ২৭ মার্চ আলিম পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন মাদরাসার অধ‌্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা মাদরাসার পিয়ন নুরুল আমিনকে দিয়ে তার কক্ষে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সিরাজ নুসরাতকে বলে, ‘তুই মাদরাসার অন্য ছেলেদের সঙ্গে প্রেম করিস, আমার সঙ্গে প্রেম করলে কি হয়? ওরা তোকে কি দেয়, আমি তোরে পরীক্ষার প্রশ্ন দেব’- এমন প্রস্তাবে নুসরাত রাজি না হলে সিরাজ নুসরাতকে জড়িয়ে ধরে এবং স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দেয়। পরে নুসরাত কাঁদতে কাঁদতে অধ্যক্ষ সিরাজের কক্ষ থেকে বের হয়, যা নুসরাতের অপর সহপাঠীরা দেখতে পায়। 

এর পরদিন ২৮ মার্চ নুসরাতের মা স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইয়াসিনকে নিয়ে মাদরাসায় যান এবং সিরাজের কক্ষে গিয়ে তাকে তার বেত দিয়ে বেত্রাঘাত করেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি মাদরাসা কমিটিকে জানানো হয়। পরে মাদরাসা কমিটি পুলিশ তলব করে। পুলিশ গিয়ে সিরাজকে আটক করে এবং সেদিনই নুসরাতের মা শিরিন আখতার সিরাজকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওইদিনই সিরাজকে জেলহাজতে পাঠায়। 

একই দিন নুসরাতের মা শিরিন আখতার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম‌্যাজিস্ট্রেট এস এম ইমরানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেদিন নুসরাতও ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। সেই জবানবন্দিতে নুসরাত বর্ণনা করে সিরাজ তার কোনো জায়গায় কীভাবে স্পর্শ করে। 

এরপর পুলিশের তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শাহ আলম ৮ জুলাই ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি জমা দেন। পরদিন অভিযোগ গঠনের শুনানি হয় এবং অপরাধ আমলে নেন আদালত। আদালত নারী  ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০৩-এর ১০ ধারায় ১৭ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন। রোববার ২৭ অক্টোবর মামলাটির সাক্ষ‌্য দেওয়ার দিন ধার্য‌ ছিল। আদালতের অধিবেশন না থাকায় তা পিছিয়ে ১৩ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য‌ করা হয়েছে। 

নুসরাতের মা শিরিন আখতার বলেন, এক মামলায় তো কুলাঙ্গার সিরাজের ফাঁসি হয়েছে। এই মামলায়ও যেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। 

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ফেনী জজ কোর্টের পিপি হাফেজ আহম্মদ জানান, নারী ও শিশু আইন ২০০৩-এর ১০ ধারায় এ মামলায় আসামির ১০ বছরের শাস্তি হতে পারে। অপরাধের সব তথ‌্য প্রমাণ আছে। আমরা আশা করব, ধারা অনুযায়ী এ মামলায়ও সিরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads