অবহেলা, অযত্ন ও যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা ডাকবাংলো। দিনাজপুর জেলা পরিষদের অধীনে থাকা এ ডাকবাংলোটি রয়েছে ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার থানা সংলগ্ন পুরাতন বাজারে। কিন্তু ডাকবাংলোটি নির্মাণের পর থেকেই আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কার কাজ না করায় তা বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। দেয়াল ও ছাঁদ ধসে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ছাঁদের উপর ও দেয়াল দিয়ে গজিয়েছে বিভিন্ন জংলি গাছ। রুমের ভিতরে ছাঁদ থেকে সিমেন্ট খসে খসে নিচে পড়ছে।
ছাঁদ ধসে যাওয়ার সম্ভবনা থাকায় দাপ্তরিক কাজে সরকারি কোনো আমলা এই উপজেলায় আসলে সেখানে বিশ্রাম নেন না।
ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মাদ আলী সওদাগর বলেন, ডাকবাংলোটি আমার নির্বাচিত ওয়ার্ডে অবস্থিত। আমি অনেক বার জেলা পরিষদের ১৫ নং সদস্য (ঘোড়াঘাট) মাধ্যমে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার সোহরাব আলী জানান, ডাকবাংলোটির ছাঁদ ও দেয়াল যেকোনো সময় ধসে যেতে পারে। তাই ডাকবাংলোটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে দিনাজপুর জেলা পরিষদ। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই মাঝে মধ্যে সেখানে থাকেন।
ডাকবাংলোটির পরিচ্ছন্নতা কর্মী অলিমা আক্তার জানান, বৃষ্টির সময় ছাঁদ থেকে পানি চুয়ে চুয়ে পড়ে। দেয়ালের প্লেস্টার খসে খসে পড়ছে।
ঘোড়াঘাট থানার সাবেক ওসি (তদন্ত) ফেরদৌস আলী দীর্ঘদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে রাত্রীযাপন করেছি। তবে এখন ডাকবাংলোটি তালাবদ্ধ।
দিনাজপুর জেলা পরিষদের ১৫ নং সদস্য (ঘোড়াঘাট) অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম বলেন, ডাকবাংলোটি পুরোপুরি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে ভবনের ছাঁদ ও দেয়াল ধসে যাবার আশঙ্কা থাকায় ভবনটি বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে না। ভবনটি সংস্কার কাজের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি। বরাদ্দ পেলেই পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে দিনাজপুরের দু‘টি উপজেলা ডাকবাংলো সংষ্কারের টেন্ডার হয়েছে। বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে ঘোড়াঘাট উপজেলা ডাকবাংলোর কাজও শুরু করা হবে।





